Published : 08 Jan 2026, 11:57 PM
বাসিন্দাদের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার আলেপ্পোর কিছু অংশে নতুন করে হামলা শুরু করেছে সিরীয় সেনারা।
কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে হামলা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ এনে তারা এ নতুন আক্রমণ শুরু করেছে।
দুই পক্ষের এ সংঘর্ষ এরই মধ্যে তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সাতটিরও বেশি মানচিত্র প্রকাশ করে কোথায় কোথায় হামলা চালানো হবে তা জানিয়েছে সিরীয় সেনারা, নিরাপত্তার খাতিরে সেসব এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে তাগাদাও দিয়েছে তারা। তাদের অপারেশ কমান্ড বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা থেকে শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়া এলাকায় কারফিউও জারি করেছে।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের কারণে এরই মধ্যে হাজারও বেসামরিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। কয়েক ডজন হতাহতেরও খবর পাওয়া গেছে।
“আজ এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মানুষ এলাকা ছেড়ে গেছে। আমরা যাদের দেখেছি, তাদের বেশির ভাগই নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ। কিছু রোগীকে হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, আর কিছু মানুষকে অ্যাম্বুলেন্সেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে,” বলেছেন আলেপ্পোর সিরীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম প্রধান ফয়সাল আলি।
এসডিএফ বলেছে, তাদের যোদ্ধারা আলেপ্পোর সিরিয়াক এলাকায় দামেস্কঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গোষ্ঠী ও তাদের মদদপুষ্টদের সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ে জড়িয়েছে। যুদ্ধে বিপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে।
দুইপক্ষের এই সংঘর্ষ এবং এর পেছনে কার দায় তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দামেস্ক ও কুর্দি কর্তৃপক্ষের মধ্যকার বিভক্তি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি বলেছেন, আলেপ্পোর কুর্দি এলাকাগুলোতে হামলার খবরে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
বেসামরিকদের ওপর হামলা এবং ওই এলাকাগুলোর জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে ফেলে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ চালানোর চেষ্টা চলছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বারজানি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে আহ্বান জানিয়েছেন।
এসডিএফের অভিযোগ, দামেস্কঘনিষ্ঠ বাহিনীগুলো বেসামরিক এলাকায় বেআইনি হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছে।
গোলাবর্ষণের বিষয়ে প্রকাশ্য সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি এবং যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য হতে পারে, বলছে তারা।
বৃহস্পতিবার অনেক বাসিন্দাকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া নিরাপদ করিডোর দিয়ে শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়া এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
উত্তরপূর্ব সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখনও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এসডিএফের হাতে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটবিরোধী লড়াইয়ে তারাই দেশটিতে ওয়াশিংটনের মূল সহায়ক শক্তি।
সিরিয়ায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে উত্তরপূর্ব সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকা ও আলেপ্পোর কিছু অংশে তারা কুর্দি নেতৃত্বাধীন একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালের শেষদিকে বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করে দামেস্কে ইসলামপন্থি গোষ্ঠী ক্ষমতা নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে একীভূত হতে চাপও তারা অনেকখানিই অগ্রাহ্য করে আসছে।
গত বছর দামেস্ক এসডিএফের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল, যার আওতায় ২০২৫ এর শেষ নাগাদ কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সিরিয়ার কেন্দ্রীয় বাহিনীতে পুরোপুরি একীভূত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে খুব একটা অগ্রগতি দেখা যায়নি, এজন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে সর্বশেষ রোববারও বৈঠক হয়েছে। যদিও এসব আলোচনায় এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সফলতা দেখা যায়নি।
কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, এসডিএফকে সিরীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত করা না গেলে সামনে আরও সংঘাত দেখা যেতে পারে। এমনকী এই সংঘাতে তুরস্কও জড়িয়ে পড়তে পারে।
কুর্দি বাহিনীগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ বিবেচনা করা আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরেই কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।