Published : 06 Jul 2026, 06:13 PM
ঢাকার আদাবরে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাহকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আরো এক আসামি আদালতে ‘দায় স্বীকার করে’ জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
পারভেজ নামে ওই আসামিকে রোববার ভোরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার এসআই হাফিজুর রহমান।
জবানবন্দি নেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান তথ্য দিয়েছেন।
পারভেজের আগে শনিবার নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া, শহীদ নামে পাঁচ আসামি আদালতে ‘দায় স্বীকার করে’ জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মিজান নামে আরেক আসামিও কারাগারে আছেন। তারও আগে শুক্রবার এ ঘটনায় সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির নামে গ্রেপ্তার দুই আসামিকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির জয়ের পর সেই উদযাপন ঘিরে দ্বন্দ্ব থেকে ১ জুলাই নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা ও সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে কোপানো হয়। সেই রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাদশাহ।
ঘটনার তিন দিন ৪ জুলাই বাদশাহর স্ত্রী স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় মামলা করেন। সেখানে মজনু, তার তিন ছেলে ও শহীদকে আসামি করা হয়। অচেনা আরো ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবলে গত ২৯ জুন হওয়া ম্যাচে জয় পায় ব্রাজিল। জয় উদযাপনে আসামি নিরব উচ্চস্বরে বাঁশি বাজাতে থাকেন। ‘হৃদরোগে ভোগা’ হাবিবুর রহমান নামে একজন বাঁশি বাজাতে নিষেধ করেন। এতে নিরব ক্ষেপে তাকে মারতে যান।
অভিযোগে আরো বলা হয়, হাবিবুর রহমানের ভাগনে বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য আসামিদের নবোদয় হাউজিংয়ে তার অফিসে ডাকেন। গত ৩০ জুন দুপুরে তিন আসামি সাদ্দামের টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিতে পথরোধ করেন। তখন তিনি হাবিবুর রহমানের ভাগনে পরিচয় পেয়ে আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কপালে আঘাত করেন। এ ঘটনার পর বিরোধ মেটাতে আসামিদের নিয়ে হাসান মিয়া লেদু নামে স্থানীয় একজন নবোদয় হাউজিংয়ের কাঁচাবাজার এলাকার একটি দোকানে সালিশের উদ্যোগ নেন।
১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামিরাসহ স্থানীয় কিছু লোকজন দোকানে হাজির হন। আসামিরা সালিশ হবে বুঝতে পেরে সেখান থেকে বের হয়ে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। সালিশের জন্য সাদ্দাম ও বাদশাও ওই দোকানে যান। কিন্তু আসামিরা চলে যাওয়ায় দোকানো জড়ো হওয়া ব্যক্তিরাও চলে যান। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে চার রাস্তার মোড়ে আসামিরা সাদ্দাম ও বাদশা ওপর হামলা করেন। চাকু ও চাপাতি দিয়ে দুজনকে কোপানো হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। পরে বাদশার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।