Published : 19 Jan 2026, 12:42 PM
পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচির এক শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মৃতদের মধ্যে এক দমকলকর্মীও আছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা এখন কয়েক ডজন নিখোঁজদের সন্ধান পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শনিবার রাতে লাগা গুল প্লাজার আগুন নেভাতে দমকলকর্মীদের ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
৮ হাজার বর্গকিলোমিটার ওই মলে এক হাজার ২০০-র মতো দোকান ছিল।
আগুনে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। ধ্বংসাবশেষ এবং বাতাসের স্বল্পতা উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, বলছেন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় জরুরি পরিষেবা বিভাগ বলেছে, শনিবার রাতে উদ্ধারকর্মীরা যতক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তার আগেই ‘প্রায় পুরো ভবন আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়’।
এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫৮ জন নিখোঁজ বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছে। বিপনীবিতানটির যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তার বাইরে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা জড়ো হয়েছেন; প্রিয়জনের খবর জানতে তারা উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
শহর কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের নাম ও বিবরণ নথিভুক্ত করতে একটি ডেস্ক স্থাপন করেছে।
সোমবার সকালেও গুল প্লাজা ভবনের অবশিষ্টাংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। ভবনটির বেশিরভাগ অংশেই ধসে পড়েছে, বাকিটুকুও যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
করাচির রেসকিউ ১১২২-র মুখপাত্র হাসান খান বলেছেন, ভবনটিতে প্লাস্টিক ফোম, কাপড় ও পারফিউমের মতো দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়াতে পেরেছে।
রোববার সন্ধ্যার মধ্যে মলটির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আরও মৃতদেহ মিলতে পারে এ আশায় ধ্বংসাবশেষ সরাতে ক্রেন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীরা টিকে থাকা ভবনের বাকি অংশ ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন, যেন তারা বিস্তৃত তল্লাশি চালাতে পারেন।
নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬ জন অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটির ভেতর ছিলেন বলে তাদের মোবাইল লোকেশন বলছে, জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
গুল প্লাজার এক দোকান মালিক জাইন বলছেন, শনিবার আগুন লাগার সময় মলের ভেতর কয়েকশ মানুষ ছিল।
“চোখের সামনেই আমার দোকানগুলো পুড়ল। আমরা মালপত্র বের করারও সময় পাইনি। সেসময় অনেক মানুষ ভেতরে ছিল। আমার অনেক বন্ধু আছে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না,” বলেছেন তিনি।
এক পথচারী বলেছেন, আগুন লাগার পর দোকান মালিকরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তাদের চেষ্টা বিফলে যায়।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এ ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সিন্ধু প্রদেশের সরকারকে অঞ্চলজুড়ে থাকা সব বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিস্তৃতভাবে খতিয়ে দেখতে বলেছেন।