Published : 01 Jun 2026, 04:06 PM
আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিকান অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) ভাইরাসজনিত রোগ ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনে আক্রান্ত চারজন নার্স চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত রোববার জানিয়েছে, দেশটির বুনিয়া শহরের একটি হাসপাতাল থেকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আশা করছে, আক্রান্তদের রোগ দ্রুত শনাক্ত করা এবং সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হলে সুস্থতার হার আরও বাড়বে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক ল্যাব কর্মীও ইবোলা থেকে আরোগ্য লাভ করেছিলেন; যার ফলে দেশটিতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
তবে এই স্বস্তির মাঝেই আফ্রিকার বাইরে ব্রাজিল ও ইতালিতে কঙ্গো ও উগান্ডা ফেরত যাত্রীদের শরীরে ইবোলা সংক্রমিত হয়েছে সন্দেহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
কঙ্গোর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে আরও ১৯ জনের পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসায় দেশটিতে মোট নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮২ জনে, যার মধ্যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঙ্গো এবং উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া বিরল বুন্দিবুগিও ধরনের এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে; যদিও এটি মহামারী ঘোষণার সমস্ত মানদণ্ড পূরণ করেনি।
গত শনিবার কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া পরিদর্শন করেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।
সে সময় তিনি বলেন, বুন্দিবুগিও ধরনের ইবোলার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত প্রতিষেধক বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
তবে এই পরিস্থিতিকে ‘একেবারে হতাশাজনক’ বলতে নারাজ তিনি। ডব্লিউএইচও প্রধানের মতে, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ বেঁচে ফেরা সম্ভব।
আফ্রিকার বাইরেও ইবোলার সন্দেহজনক লক্ষণ
কঙ্গোতে এটি ১৭তম বারের মতো ইবোলা প্রাদুর্ভাব এবং ভাইরাসটি আবিষ্কারের পর গত অর্ধশতাব্দীর ইতিহাসে এটি তৃতীয় বৃহত্তম সংক্রমণ। কিন্তু বৈশ্বিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলো দেরিতে শুরু হওয়ায় সংক্রমণের গতির তুলনায় এসব উদ্যোগ বেশ পিছিয়ে রয়েছে।
আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) মহাপরিচালক জিন কাসেয়া গত রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে লিখেছেন, “আঞ্চলিকভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ইতিমধ্যে বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।”
তিনি জানান, বর্তমানে ১,১০০-এরও বেশি সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্তের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ব্রাজিলের সাও পাওলোতে কঙ্গো থেকে আসা এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা সংক্রমণের প্রাথমিক সন্দেহ দেখা দিলেও পরীক্ষায় তাঁর ‘মেনিনজাইটিস’ ধরা পড়েছে।
অন্যদিকে, উগান্ডা থেকে রিও ডি জেনিরোতে ফেরা আরেক সন্দেহভাজন রোগীর শরীরে ‘ম্যালেরিয়া’ শনাক্ত হয়েছে বলে গত রোববার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে স্থানীয় চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই দুটি রোগ ধরা পড়ার মানেই এই নয় যে তাঁদের ইবোলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া ইতালির সার্ডিনিয়ার রাজধানী ক্যাগলিয়ারিতে কঙ্গো থেকে বিমানযোগে ফিরে আসা এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বিশেষ স্বাস্থ্য প্রোটোকল চালু করা হয়েছিল।
তবে সোমবার ভোরে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষায় ওই ব্যক্তির ইবোলা নেগেটিভ এসেছে।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, “ইতালিতে ইবোলার সামগ্রিক ঝুঁকি এখনো অত্যন্ত কম।”