১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েল ও প্রতিবেশীদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের

হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি খুলে’ না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েল ও প্রতিবেশীদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের
সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Mar 2026, 05:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:13 PM

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ‘ধ্বংস’ করার হুমকি কার্যকর করেন, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে ইরান। 

সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটির শক্তিশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

রয়টার্স লিখেছে, বিবৃতিতে তারা এই অঞ্চলের পানি শোধনাগারগুলোতে হামলার আগের দেওয়া হুমকি থেকে সরে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। ওই শোধনাগারগুলো উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর পানীয় জলের প্রধান উৎস।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পানি শোধনাগারগুলোতে হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে চায়, এটা একটা মিথ্যা কথা। আমরা যেকোনো হুমকির সমপর্যায়ে জবাব দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আপনি যদি বিদ্যুত খাতে আঘাত করেন, আমরাও বিদ্যুত খাতে আঘাত হানবো।”

এর আগে শনিবার ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সব ধরনের জাহাজের জন্য ‘পুরোপুরি খুলে’ না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। 

ট্রাম্পের দেওয়া এই সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শেষ হওয়ার কথা বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইরানের হুমকির কারণে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর ফলে ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে ভয়াবহতম জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। 

ট্রাম্প এই হুমকি এমন এক সময়ে দিলেন যখন তিনি যুদ্ধ গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, অথচ একই সময়ে মার্কিন মেরিন সেনারা এই অঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে। 

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য তা হবে বিপর্যয়কর। মরুভূমির আধুনিক শহরগুলোকে বাসযোগ্য রাখতে এই দেশগুলো মাথাপিছু অনেক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। 

বাহরাইন ও কাতারের শতভাগ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৮০ শতাংশ পানীয় জল আসে বিদ্যুৎ-চালিত শোধনাগারগুলো থেকে। সৌদি আরবের পানির চাহিদার ৫০ শতাংশ মেটায় এই কেন্দ্রগুলো।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “আমাদের ধ্বংস হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।” 

তবে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের পতাকাবাহী কিছু জাহাজকে সেখানে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: 

হরমুজ অবরোধ খুলতে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র 'নিশ্চিহ্ন করারহুমকি ট্রাম্পের