Published : 31 May 2026, 12:18 AM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর সহিংসতার শিকার দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্থানীয়দের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। এলোপাতাড়ি মারধর, ধ্বস্তাধ্বস্তির মধ্যে অভিষেকের জামা ছিঁড়ে যায়। তার গায়ে ছোড়া হয় ডিম এবং জুতোও।
শনিবার বাইকে চড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে তার গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় অভিষেকের মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। ভেঙে দেওয়া হয় বাইক। অভিষেকের জামা ছিঁড়ে যায়। ভেঙে যায় চশমাও।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় দিয়ে অভিষেক এগোতে থাকেন সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে।
সেই সময় তার গায়ে ডিম ছোড়া হয়, জুতোও ছোড়া হয়। ওই অবস্থায় হেঁটে এগোতে থাকেন তৃণমূল নেতা। সে সময় ভিড়ের মধ্য থেকে তার বিরুদ্ধে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও ওঠে।
এতকিছুর মধ্যেও অবশেষে নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে পৌঁছান অভিষেক। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটাই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি।
তিনি সোনারপুরে যাওয়ার আগেই কোথাও কোথাও নারীদের ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কোথাও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিল ভারতীয় জনতা পার্টির লোকজন।
এর মধ্যেই গাড়িতে না-গিয়ে মূল রাস্তা থেকে নেমে দলীয় এক কর্মীর বাইকে করে যাত্রা করেছিলেন অভিষেক। মোট তিনটি বাইক যাচ্ছিল। মাঝখানের বাইকে পিছনের আসনে বসেছিলেন অভিষেক। তার পিছনের আসনে আরও একজন বসেছিলেন। তখনই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
বাইক ধাওয়া করে দৌড়োতে থাকেন কয়েক জন। তার পর শুরু হয় শারীরিক হেনস্থা। নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা যায় এই তৃণমূল নেতাকে।
নিহত কর্মীর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমার মাথাটা বেঁচে গেছে হেলমেট ছিল বলে। আমি হয়ত এভাবেই এখান থেকে বেরিয়ে যাব। কিন্তু এরপর সঞ্জু কর্মকারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর তারা চড়াও হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ওরা আমায় মারতে চায়! মেরে দিক! আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।
“আমি হাই কোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। হামলাকারীরা এখন (সঞ্জুর বাড়ির) দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। পুলিশের কেউ নেই এখানে। আমি এসপি এবং আইসি-কে জানাতে বলেছি। এখনও কোনও বাহিনী আসেনি।’’
অভিষেকের দাবি, আগেভাগে তার কর্মসূচির কথা জেলা পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তার পরও কাউকে দেখা যায়নি। কার্যত তাকে বিক্ষোভের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এবং বেলেঘাটার দুই আক্রান্ত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে এদিন দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক। তার মধ্যেই দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ যায় রাজ্য সিআইডি-র একটি দল।
তবে তার বাড়ির রক্ষী এবং কর্মীরা জানান, বাড়িতে নেই তৃণমূল নেতা এবং তার পরিবারের কেউ। বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই-জালিয়াতি মামলার তদন্তে অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি এই অভিযান চালিয়েছিল বলে জানা গেছে খবরে।
প্রায় ওই সময়েই তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তার বাড়িতে রয়েছেন।
বেলঘাটায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত তৃণমূল কর্মী বিশ্বনাথ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অভিষেক কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “আমি শান্তিনিকেতনে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে এই বাড়িতে আসতে হবে। কেন সিআইডি এসেছে, সেটা তারাই জানে।’’
সূত্র: এনডিটিভি