গাজা থেকে মিশর পৌঁছেছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রথম বহর

কাতারের মধ্যস্থতায় রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গাজায় আহত ফিলিস্তিনি এবং দ্বৈত নাগরিকদের মিশরে যাওয়ার অনুমতি মিলেছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Nov 2023, 12:27 PM
Updated : 1 Nov 2023, 12:27 PM

গাজা থেকে রাফাহ ক্রসিং দিয়ে আহত ফিলিস্তিনিদের নিয়ে অ্যাম্বুলন্সের প্রথম বহরটি মিশর পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি।

কায়রোতে বিবিসির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বুধবার পৌঁছানো প্রথম বহরে অন্তত সাত জন রোগী মিশর এসেছেন। আরো অ্যাম্বুলেন্স আসছে।

গাজা থেকে আসা আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্তের কাছে শেখ জুয়েইদে মিশর একটি অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করেছে।

বুধবার ৮৮ জন আহত ফিলিস্তিনিকে মিশরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও ধারণা প্রকাশ করেছেন বিবিসির প্রতিনিধিরা। তবে বিষয়টি এখনো তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। আহতদের সঙ্গে প্রায় ৫০০ জন দ্বৈত নাগরিককে এদিন রাফাহ ক্রসিং পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গাজায় আহত ফিলিস্তিনি এবং দ্বৈত নাগরিকদের মিশরে যাওয়ার অনুমতি মিলেছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মিশরের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বাগত’ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়াসুস বলেন, “অসুস্থদের উদ্ধারে আমরা মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করছি এবং তাদের সহায়তা করা অব্যাহত রাখবো।

“আমাদের গাজায় চিকিৎসা ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর গতি অবিলম্বে ত্বরান্বিত করা দরকার। সেইসঙ্গে হাসপাতালগুলিকে অবশ্যই বোমাবর্ষণের নিশানা এবং সামরিক কাজে ব্যবহার করা থেকে রক্ষা করতে হবে।”

আহতদের সরিয়ে নেওয়ার পর প্রতিদিন ৫০০ জন করে দ্বৈত নাগরিকদের রাফাহ ক্রসিং পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানায় বিবিসি।

গাজায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসায়েলের হামলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৯৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৪৮ জনই শিশু। ওই দিন ভোরে গাজা থেকে হামাস অতর্কিতে ইসরায়েলে বৃষ্টির মত রকেট বর্ষণ করার পর সীমান্ত বেড়া ভেঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে রীতিমত হত্যাযজ্ঞ চালায়। সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হত্যা করে ১৪শ’র বেশি জনকে। অপহরণ করে নিয়ে যায় আরো প্রায় ২৩০ জনকে।

ওই হামলার প্রতিশোধ নিয়ে হামাসকে নির্মূল করার অভিযানে নেমেছে ইসরায়েল। যার বলি হচ্ছে গাজার লাখ লাখ সাধারণ ফিলিস্তিনি। যারা দশকের পর দশক ধরে নিজেদের মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।