Published : 17 Sep 2026, 07:38 PM
পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) বিরুদ্ধে মোহাম্মাদ রিজওয়ানের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে লাহোর হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই কিপার-ব্যাটসম্যানকে সংস্থাটির জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিজওয়ান তার আইনজীবীদের মাধ্যমে বুধবার আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয় যে, এনসিসিআইএ তাকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি। এছাড়া এই বিষয়ে সংস্থাটির কোনো এখতিয়ার নেই বলেও দাবি করা হয়; আবেদন অনুযায়ী বিষয়টি ছিল ‘পাকিস্তান ক্রিকেটে কথিত অনলাইন বাজি বা জুয়া সংক্রান্ত।’
তবে বৃহস্পতিবার সংক্ষিপ্ত শুনানির পর আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিজওয়ান আপিল করবেন নাকি এনসিসিআইএ এর জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দেবেন, তা এখনও জানা যায়নি।
গত সপ্তাহে এনসিসিআইএ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করায় রিজওয়ান এই রিট আবেদনটি করেন। একই দিন পাকিস্তানের আরেক ব্যাটসম্যান ইমাম-উল-হাককেও সংস্থাটির সামনে হাজির হতে হয়েছিল; তবে তাকে দেওয়া প্রশ্নগুলোর লিখিত জবাব পূরণ করে এই সপ্তাহের শুরুর দিকেই সংস্থার কাছে তিনি পাঠিয়ে দেন।
অন্যদিকে, রিজওয়ান আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তার আবেদনে বলা হয়, “অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভুল ধারণা-প্রসূত, বানোয়াট, কাল্পনিক ও অস্পষ্ট এবং আবেদনকারীর স্বার্থ ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশে করা হয়রানিমূলক ও দুর্বল প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
আবেদনে এনসিসিআইএ এর এখতিয়ারকেও চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং উল্লেখ করা হয় যে, এই ধরনের বিষয় সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এসিইউ) রয়েছে।
আবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, “ঠিক কোন অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বা কোন নিয়মটি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা নোটিশটিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি; এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াটি কেবল অনিয়মতান্ত্রিকই নয়, বরং তা সম্পূর্ণভাবে এখতিয়ার-বহির্ভূত।”
আবেদনে দাবি করা হয় যে, ইংল্যান্ডে লর্ডস টেস্টের পরপরই রিজওয়ানের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেওয়া হয়। ওই ম্যাচে ১৯৪ রানে হারের পর, এক ম্যাচ বাকি থাকতেই রিজওয়ান ও ইমামসহ সাত ক্রিকেটারের পাশাপাশি প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকে দেশে ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
আরও দাবি করা হয়েছে যে, রিজওয়ানকে “রাত ১টার সময় হোটেলের লবিতে তলব করা হয়, যে হোটেলে পুরো দল অবস্থান করছিল।” এতে আরও বলা হয়, “সেখানে সরকারি কোনো সংস্থার এক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে কোনো পূর্ব-নোটিশ না দেওয়া সত্ত্বেও, ওই কর্মকর্তা আবেদনকারীকে (রিজওয়ান) জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কোনো কারণ বা যৌক্তিকতা না দেখিয়েই তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করে নেন। ফোনটি জব্দ করার কোনো অনুমোদিত আদেশ বা নির্দেশনার কথাও তাকে জানানো হয়নি।”
রিজওয়ান তার ফোনটি এই আশ্বাসে দিয়েছিলেন যে “পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে পরবর্তী তিন ঘণ্টার মধ্যে তাকে ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত ফোনটি তাকে ফেরত দেওয়া হয়নি।”
পিসিবি গত সপ্তাহে ইংল্যান্ড সফর নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয়, যদিও এর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বোর্ড কোনো খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ না করলেও জানায় যে, “শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত গণমাধ্যমের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে তারা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে, যা বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।” বোর্ড আরও জানায় যে, এই প্রক্রিয়াটি পিসিবির বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
লর্ডস টেস্টের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য রিজওয়ান ও ইমামের দলভুক্তির কারণ ও প্রক্রিয়া জানতে নির্বাচকদের একটি নোটিশ পাঠিয়েছিল পিসিবি। ওই নোটিশে তাদের দলে নেওয়ার কারণ এবং এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। দল গঠনে পরিবর্তনের জেরে নির্বাচকদের একজন, মিসবাহ-উল-হাক, তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ইংল্যান্ড সফরে তিন টেস্টের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হারে পাকিস্তান।