Published : 20 Sep 2026, 10:12 PM
শেষ ব্যাটসম্যান স্পেন্সার জনসনকে নিয়ে তখন লড়ছেন ন্যাথান এলিস। ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারলেন তিনি। জায়গামতো গেলেও বল মুঠোয় জমাতে পারলেন না ওয়েসলি মাধেভেরে। পরে তার করা শেষ ওভারে ৮ রানের সমীকরণ মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দারুণ এক জয় এনে দিলেন এলিস। বাগে পেয়েও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারাতে না পারার আক্ষেপ পুড়ল জিম্বাবুয়ে।
আগের দুই ম্যাচে লড়াই করতে না পারা জিম্বাবুয়ে রোববার চোখে চোখ রেখে করে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোয়াইটওয়াশড এড়াতে পারেনি তারা। হারারেতে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১ উইকেটের জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্রেইভ আরভাইন ও সিকান্দার রাজার ফিফটিতে আগে ব্যাটিং করে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। সাত চারে ৫৫ রান করেন কাইয়া। পাঁচটি চারে ৫৯ রান আসে আরভাইনের ব্যাট থেকে। একটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন রাজা।
ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত বোলিংয়ে রান তাড়ায় চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে সফরকারীদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেন জশ ইংলিস। ১১ চারে ১০৩ রান করেন তিনি। শেষ দিকে এলিসের ৩৬ রানে এক বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছায় ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৩৫ ওয়ানডে খেলে স্রেফ তিনটিতে জিতেছে জিম্বাবুয়ে। সবশেষটি চার বছর আগে, টাউন্সভিলে। তাসমান সাগর পারের দলটিকে আরেকবার হারানোর সুযোগ হাতছাড়া করল আফ্রিকার দলটি।
লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা একদমই ভালো হয়নি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ানকে দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় করে দেন ইভান্স। নিজের পরের ওভারে এই পেসার কট বিহাইন্ড করেন মিচেল মার্শকে।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি করা কুপার কনোলিকে এবার ২১ রানে বোল্ড করে দেন ৮ বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে গ্রায়েম ক্রিমার। ৪০ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনারের আগের ওয়ানডে ছিল ২০১৮ সালে।
ক্রিমার ছাড়া জিম্বাবুয়ের একাদশে ৪০ বছরের বেশি বয়সী ক্রিকেটার ছিলেন আরও তিনজন- ব্রেন্ডান টেইলর, আরভাইন ও রাজা। দ্বিতীয় দল হিসেবে ওয়ানডেতে এমন কিছু করল তারা। ২০০৪ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুই ম্যাচে চারজন চল্লিশোর্ধ বয়সী ক্রিকেটার নিয়ে খেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়ার হাল ধরেন ইংলিস। তাকে সঙ্গ দেন অ্যালেক্স কেয়ারি। ৮৫ রানের জুটি গড়েন তারা।
ইভান্সের বলে পয়েন্টে মাধেভেরের চোখধাঁধানো ক্যাচে ফেরেন কেয়ারি। ৫ চারে ৩৪ রান করেন তিনি। পরে বোলিংয়ে এসে প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ম্যাট রেনশর (৪ রান) স্টাম্প ভেঙে দেন মাধেভেরে।
অলিভার পিক, জাভিয়ার বার্টলেট পারেননি ইংলিসকে সঙ্গ দিতে। ৯৪ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করা ইংলিসও পারেননি কাজ শেষ করে ফিরতে। তাকে বোল্ড করে দেন রাজা।
নবম উইকেট হিসেবে যখন অ্যাডাম জ্যাম্পা বিদায় নেন তখন ২৮ বলে ২৭ রান লাগে অস্ট্রেলিয়া। স্পেন্সার ও এলিস মিলে সেই সমীকরণ মিলিয়ে দেন। যেখানে অগ্রণী ছিলেন এলিস।
শেষ ওভারে ৮ রানের প্রয়োজনে প্রথম বলে ছক্কায় ওড়ান তিনি। ম্যাচ জেতানো রানটিও আসে তার ব্যাট থেকে।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। সপ্তম ওভারে বেন কারানকে কট বিহাইন্ড করে দেন জনসন। নিজের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে ফেরান এলিস। পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৩০ রান করেন বেনেট।
টেইলরকে বোল্ড করে দেন জ্যাম্পা। সিরিজে আগের দুই ম্যাচে ৪ ও ৩৯ রান করা অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান এবার করেন ৯ রান। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে টানেন কাইয়া ও আরভাইন। ৮০ রানের জুটি গড়েন তারা।
চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৫৯ বলে তৃতীয় ওয়ানডে ফিফটি স্পর্শ করেন কাইয়া। কিছুক্ষণ পর ডান হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ব্যাটিং অসমাপ্ত রেখেই মাঠ ছাড়েন তিনি।
রাজাকে নিয়ে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি গড়েন আরভাইন। ৬৭ বলে ফিফটিতে পা রাখেন তিনি। তাকে ফিরিয়ে ৬১ রানের জুটি ভাঙেন জ্যাম্পা। ৫১ বলে ফিফটি করা রাজা শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৭১/৮ (বেনেট ৩০, কারান ৭, কাইয়া ৫৫, টেইলর ৯, আরভাইন ৫৯, রাজা ৮১*, মাধেভেরে ১, ইভান্স ১১, ক্রিমার ১, মাসুকু ৩, মুজারাবানি ০*; জনসন ১০-১-৫০-২, বার্টলেট ১০-০-৬৯-০, এলিস ১০-০৫০-৩, কনোলি ৩-০-১৭-০, রেনশ ৬-১-২৬-০, জ্যাম্পা ১০-০-৫৩-২, পিক ১-০-৪-০)
অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৫ ওভারে ২৭২/৯ (মার্শ ৮, হেড ৬, কনোলি ২১, ইংলিস ১০৩, কেয়ারি ৩৪, রেনশ ৪, পিক ১৯, বার্টলেট ৩, এলিস ৩৬*, জ্যাম্পা ৯, জনসন ৭*; মুজারাবানি ১০-১-৪৯-০, ইভান্স ১০-০-৪৭-৪, মাসুকু ৫-০-৩৮-০, ক্রিমার ৯-০-৫৩-২, রাজা ১০-০-৪২-২, মাধেভেরে ৫.৫-০-৩৪-১)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: জশ ইংলিস
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশড জিম্বাবুয়ে
ম্যান অব দা সিরিজ: কুপার কনোলি