১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ওলিসের হ্যাটট্রিক, কেইনের দ্রুততম সেঞ্চুরি, বায়ার্নের জয় ৭-০ গোলে

বুন্ডেসলিগায় অপ্রতিরোধ্য পথচলায় আরও একটি রেকর্ড নিজের করে নিলেন হ্যারি কেইন, ম্যাচজুড়ে মাস্টারক্লাস পারফরম্যান্স মেলে ধরলেন মাইকেল ওলিসে।

ওলিসের হ্যাটট্রিক, কেইনের দ্রুততম সেঞ্চুরি, বায়ার্নের জয় ৭-০ গোলে

বায়ার্ন মিউনিখের গোল উৎসবের দুই নায়ক মাইকেল ওলিসে ও হ্যারি কেইন। ছবি: রয়টার্স।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Sep 2026, 10:04 AM

Updated : 19 Sep 2026, 10:04 AM

বুন্ডেসলিগায় রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা নতুন নয় হ্যারি কেইনের জন্য। অপ্রতিরোধ্য পথচলায় এবার আরও একটি রেকর্ড নিজের করে নিলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। ম্যাচজুড়ে মাস্টারক্লাস পারফরম্যান্স মেলে ধরে হ্যাটট্রিক উপহার দিলেন মাইকেল ওলিসে। এই দুই তারকার সঙ্গে অন্যদেরও জ্বলে ওঠার ম্যাচে উনিয়ন বার্লিনকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিখ।

বুন্ডেসলিগার ম্যাচটিতে শুক্রবার বায়ার্ন মিউনিখ জেতে ৭-০ গোলে।

ঘরের মাঠে অষ্টাদশ মিনিটে গোলের সূচনা করেন জামাল মুসিয়ালা। পরে কেইন করেন দুই গোল, ওলিসে তিনটি। বাকি গোলটি করেন ইসমায়েল সাইবারি।

কেইন দুই গোলের প্রথমটি করেন পেনাল্টি থেকে। বুন্ডেসলিগায় তার শততম গোল এটি। ১০০ গোলের ঠিকানায় পৌঁছলেন তিনি লিগের ইতিহাসের দ্রুততম ফুটবলার হিসেবে।

৯৮ ম্যাচ খেলে এই মাইলফলক ছুঁয়ে কেইন দুমড়েমুচড়ে দিয়েছেন আগের রেকর্ড। সেই ১৯৭০-এর দশকে রেকর্ডটি গড়েছিলেন ডিটার মুলার। সাবেক এই স্ট্রাইকারের ১০০ গোল করতে লেগেছিল ১২৯ ম্যাচ।

ম্যাচের পর কেইন শোনালেন নিজের অর্জনে গর্বের কথা।

“সত্যি বলতে, বুন্ডেসলিগায় ১০০ গোল করতে পেরে আমি খুবই গর্বিত। প্রিমিয়ার লিগে অবশ্যই এটা করেছি, এখন অন্য একটি লিগে করতে পারাটা আমার জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়। আমি শুধু দলকে অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

তিন বছরের একটু বেশি সময়ে এই ১০০ গোল করে ফেললেন কেইন। ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই লিগে করেছিলেন তিনি ৩৬ গোল। পরের মৌসুমে করেন ২৬ গোল, গত মৌসুমে ৩৫টি।

এই তিন মৌসুমেই লিগের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার ছিলেন তিনি। তার ক্লাব লিগ শিরোপা জয় করে এর দুটিতে। গত মৌসুমে কেইনের অসাধারণ পারফরম্যান্সে লিগে ১১২ গোলের রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বায়ার্ন।

জার্মান ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫৪ ম্যাচে ১৫১ গোল হয়ে গেল তার। এরকম গোলের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন তিনি টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে ইংলিশ ফুটবলেও। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ইতিহাসেও সেরা গোলস্কোরার তিনিই।

এ দিন অবশ্য রেকর্ডের নায়ক কেইন হলেও ম্যাচের নায়ক ছিলেন ওলিসে। ফরাসি তারকা একটি পেনাল্টি আদায় করেন, কেইনের দ্বিতীয় গোলে সহায়তা করেন এবং নিজে করেন তিনটি গোল।

ম্যাচের অষ্টাদশ মিনিটে আলফোন্সো ডেভিসের পাস থেকে মুসিয়ালা সূচনা করেন গোল উৎসবের। এরপর ম্যাচ বলতে গেলে ওলিসেময়। ৩৯ মিনিটে তিনি ফাউলের শিকার হলে কেইন ঠান্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে গোল করেন। চার মিনিট পর মুসিয়ালার পাস থেকে গোল করে ওলিসে নিজেই স্কোরশিটে নাম লেখান।

৫৪তম মিনিটে ওলিসের পাস থেকে কেইন জোরালো শটে বল জালে পাঠান। বদলি নেমে সাইবারি পঞ্চম গোল করেন ৭০তম মিনিটে। এরপর ৭৩ ও ৭৬তম মিনিটে দ্রুত দুটি গোল করে স্মরণীয় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ওলিসে।

চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আপাতত শীর্ষে বায়ার্ন।