Published : 16 Sep 2026, 12:24 PM
দুই গোলে এগিয়ে থেকেও পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল রেয়াল মাদ্রিদে। মরিয়া জুজে মরিনিয়ো তখন একসঙ্গেই মাঠে নামান দুই ফরোয়ার্ডকে। দল তখন আক্রমণভাগে ফুটবলারের ঠাসা। মাঝমাঠ ও রক্ষণ আলগা হওয়ায় উল্টো গোল হজম করে হেরে যাওয়ার শঙ্কাও ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই কৌশল কাজে দিয়েছে। ম্যাচের পর রেয়াল মাদ্রিদ কোচ বলছেন, এতটা ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না তার।
লা লিগার মঙ্গলবার এলচের মাঠে আর্দা গুল্যালের দুর্দান্ত ফ্রিকিক থেকে আত্মঘাতী গোল এবং পরে কিলিয়ান এমবাপের গোলে প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রেয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে ধার হারায় তারা। ৭১ ও ৮৩ম মিনিটে দুটি গোলে সমতা ফেরায় এলচে।
মরিনিয়ো এরপর ৮৫তম মিনিটে ওই বাজি ধরেন মরিনিয়ো। মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি ও ডিফেন্ডার ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডর-আর্নল্ডকে একসঙ্গে তুলে নিয়ে তিনি মাঠে নামান দুই তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক ও কার্লোস এস্পিকে। মাঠে তখন আক্রমণাত্মক মানসিকার ফুটবলার ছয়জন, কিন্তু মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগ কিছুটা ফাঁকা। ঝুঁকি তাই ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ে সেই এস্পির গোলই নাটকীয়ভাবে তিন পয়েন্ট এনে দেয় রেয়ালকে।
ম্যাচের পর মরিনিয়ো বললেন, মরিয়া প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু ভাবনায় ছিল না তার।
“শেষের দিকের পরিবর্তনগুলো এনে আমি আসলে সবকিছু নিয়ে বাজি ধরেছিলাম। আমরা জিতেছি, কিন্তু হেরেও যেতে পারতাম। তবে আমাদের এটা করতেই হতো, কারণ স্রেফ ড্র যথেষ্ট নয়।”
এই মৌসুমে দলে যোগ দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন এস্পি। এস্পানিওলের বিপক্ষেও তার শেষ সময়ের গোল দলকে জিতিয়েছিল। রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ওভারহেড শটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি, তবে গোলটি পরে বাতিল হয়।
লেভান্তে থেকে আসা ২১ বছর বয়সী ফরেয়ার্ডের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি মরিনিয়ো। সামনে এমবাপের মতো একজন থাকায় তার কাজটি যে সহজ নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন রেয়াল কোচ।
“(এস্পি) ভালো খেলছে এবং দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তার সামনে একটি সমস্যা আছে, আর তা হলো এমন একজন ফুটবলার (এমবাপে) আছে, যে সাধারণ কেউ নয় এবং এমন দুজনকে একসঙ্গে নিয়ে খেলা সহজ নয়।”
তিন পয়েন্টের স্বস্তি থাকলেও এভাবে জিতে খুশি নন মরিনিয়ো। তার মতে, আগেই আরও গোল করা উচিত ছিল তার দলের।
“যে ম্যাচগুলো প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলে মনে হয়, সেগুলো শেষ করে দেওয়ার জন্য আমরা তিন, চার, পাঁচটা সুযোগ পাই, কিন্তু কাজে লাগাতে পারি ন। আজকেও গোল করতে পারিনি আমরা, ৩ বা ৪-০ গোলে ম্যাচটা শেষ করতে পারিনি। যখন সবকিছু সহজ মনে হয়, তখন সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।
এরপর ওরা গোল করে ফেলে এবং খেলাটা উন্মুক্ত হয়ে যায়। তবে ভালো দিকটা হলো, কঠিন পরিস্থিতিতে দল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং জিতছে।”
মরিনিয়োসুলভ একটু রসিকতাও তিনি করে রাখলেন এই প্রসঙ্গে।
“ভালো দিকটা হলো, রেয়াল মাদ্রিদের ম্যাচগুলোতে কেউ বিরক্ত হয় না। রেয়ালের ম্যাচ সত্যিই খুবই বিনোদনের!”