২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হারতে হারতে জয়ের মধ্যেও ভালো কিছু দেখছে অস্ট্রেলিয়া

গত চার ওয়ানডেতে দুবার এক উইকেটে জিতল অস্ট্রেলিয়া, আগামী বিশ্বকাপকে ভাবনায় রেখে এমন কষ্টার্জিত জয়েরও ইতিবাচক দিকই দেখছেন কিপার-ব্যাটসম্যান জশ ইংলিস।

হারতে হারতে জয়ের মধ্যেও ভালো কিছু দেখছে অস্ট্রেলিয়া

শেষ ম্যাচের রোমাঞ্চকর জয়ে ৩-০ ব্যবধানেই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 02:09 PM

Updated : 21 Sep 2026, 02:19 PM

জশ ইংলিসের সুযোগ ছিল ম্যাচ শেষ করে আসার। কিন্তু সেঞ্চুরি করে যখন তিনি আউট হলেন, জয় তখনও বেশ দূরে। মাঠের বাইরে বসেই অস্ট্রেলিয়ান কিপার-ব্যাটার দেখলেন লোয়ার অর্ডারদের লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত দলের রোমাঞ্চকর জয়। এভাবে হারের মুখে পড়ে যাওয়াটা কাম্য নয় কখনই। তবে আগামী বছরের বিশ্বকাপে তাকিয়ে এমন হাড্ডাহাড্ডি জয়ের ইতিবাচক দিকও দেখছেন তিনি।

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে রোববার ১ উইকেটে জিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে অস্ট্রেলিয়া।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ২৭২ রান তাড়ায় বিপদে পড়া দলকে উদ্ধার করে এগিয়ে নেন ইংলিস। আরেকপাশে যদিও সঙ্গী তেমন পাননি কাউকে। তবে তিনিও টিকতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। ১০২ বলে ১০৩ রান করে ৪২তম ওভারে যখন বোল্ড হলেন সিকান্দার রাজার বলে, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার তখনও প্রয়োজন ৪৫ রান।

উইকেট বাকি ছিল স্রেফ দুটি। স্বীকৃত কোনো ব্যাটসম্যান ছিল না বাকি। কিন্তু দলের প্রয়োজনে পেসার ন্যাথান এলিস হয়ে উঠলেন পেসার। শুরুতে অ্যাডাম জ্যাম্পাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়েন ১৮ রানের জুটি। জ্যাম্পা আউট হন ৯ রানে।

তখনও প্রয়োজন ২৭ রান। শেষ জুটিতে স্পেন্সার জনসনকে নিয়ে সেই পথ পাড়ি দেন এলিস। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে এক বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

সবশেষ চার ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার একটি দ্বিতীয়বার এক উইকেটের জয়। গত জুনে তারা মিরপুরে বাংলাদেশকে এক উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছিল।

ম্যাচের পর ইংলিস স্বীকার করলেন যে, এই ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো খুব উপভোগ্য ছিল না তার কাছে। তবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জয়ের মাঝেও প্রাপ্তি দেখছেন তিনি আগামী বিশ্বকাপে তাকিয়ে।

Image

দারুণ সেঞ্চুরিতে ম্যাচের সেরা জশ ইংলিস। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। 

“আমার মনে হয়, এটা (হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয়) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আবারও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হব এবং বিশ্বকাপ যখন মাত্র ১২ মাস দূরে, তখন আজ ওরা যা করতে পেরেছে, তা ওদের মনে একটা ভালো অনুভূতি তৈরি করবে। পরেরবার এমন পরিস্থিতি এলে কীভাবে তা সামলাতে হবে, সে সম্পর্কে ওদের আরও ভালো ধারণা থাকবে।”

ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার ইংলিস পেলেও জোর দাবিদার ছিলেন এলিসও। বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের আসল কাজ তো করেছেনই। এরপর ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৬ রান করে তিনিই শেষের নায়ক। ওয়ানডেতে তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৮ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও তার সর্বোচ্চ ইনিংস এটি।

শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৯ রান। মূল পেসারদের ওভার তখন শেষ। বাধ্য হয়ে অফ স্পিনার ওয়েসলি মাধেভেরেকে আক্রমণে আনেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। আগের ওভারেই এলিসের ক্যাচ ছেড়েছিলেন এই মাধেভেরে। সেটির খেসারত ভালোভাবেই দিতে হয় তাকে। শেষ ওভারের প্রথম বলেই লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দেন এলিস।পরের চার বলে দুটি সিঙ্গল নিয়ে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।

ইংলিস বললেন, এলিসের এভাবে ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার ঘটনা আকস্মিক নয়।

“আমি জানি, সে এটা (ব্যাটিং) নিয়ে অনেক অনুশীলন করে। সে অনেক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে এবং সেখানে যখন সে ব্যাট করতে নামে, বড় শট খেলার সামর্থ্য তার আছে। ওই শটটি ছিল দুর্দান্ত এবং শেষ ওভারে আমাদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল।”

ইংলিসের নিজের চাওয়া ছিল খেলা শেষ করে আসা। সেটি না পারলেও নিজের ব্যাটিংয়ে তিনি খুশি। চার নম্বরে ব্যাট করার বাড়তি দায়িত্বও অনুভব করতে পারছেন ৩১ বছর বয়সী ক্রিকেটার।

“আমরা এখন অনেক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলি। একদিনের ক্রিকেটের জন্য সঠিক ছন্দ খুঁজে বের করাই আমার কাজ এবং আমার মনে হয় আজ সেটা খুঁজে পেয়েছি। একটি তরুণ দলের হয়ে কিছুটা ভিন্ন ভূমিকায় খেলতে গিয়ে চার নম্বরে ব্যাট করার ক্ষেত্রে আমাকে সম্ভবত আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।

আমি যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম তা হলো, মাঝের ওভারগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করা, স্কোরবোর্ড সচল রাখা এবং শেষের দিকে টিকে থাকা। একদম শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারিনি বটে, তবে ৪০ ওভার পর্যন্ত টিকে থেকে সেঞ্চুরি করতে পেরে আমি খুশি।”