৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

উইকেট দেখে চমকে গিয়েছিল উইন্ডিজ, শেষ সময়ে একাদশে বদল এনে সাফল্য

বাংলাদেশের তিন স্পিনার মিলে নিয়েছেন ম্যাচে ৮ উইকেট, ক্যারিবিয়ান স্পিনাররা নিয়েছেন ১৬ উইকেট।

উইকেট দেখে চমকে গিয়েছিল উইন্ডিজ, শেষ সময়ে একাদশে বদল এনে সাফল্য

এই ম্যাচে খেলার কথা ছিল কিমার রোচের, কিন্তু শেষ সময়ে তার বদলে সুযোগ পাওয়া জশুয়া বিশপের হাতে ক্যাপ তুলে দেন তিনিই। ছবি: বিসিবি। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 08:03 PM

Updated : 31 Oct 2026, 08:06 PM

“গতকাল উইকেট দেখেছিলাম, মনে হয় না আগামীকাল (ম্যাচের সকালে) উইকেট একইরকম থাকবে। তারা সম্ভবত কিছুটা ঘাস ছেঁটে ফেলবে”, টেস্ট শুরুর আগের দিন বলেছিলেন রস্টন চেইস। কিন্তু ম্যাচের সকালে উইকেট দেখে তার চোখ ছানাবড়া। ঘাস ছেঁটে ফেলা হয়েছে ঠিকই, তাই বলে এতটা! বিস্ময় সামলে তড়িঘড়ি করে একাদশে বদল আনলেন তারা। সেই পরিবর্তন কাজে লেগে গেল। ম্যাচের পর সেই তৃপ্তি ফুটে উঠল ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের কণ্ঠে।

তিন পেসার নিয়ে মিরপুর টেস্টের একাদশ ঠিক করে রেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের দিন উইকেট দেখে অভিজ্ঞতম পেসার কিমার রোচকে একাদশের বাইরে রাখল তারা, দলে নেওয়া হলো জশুয়া বিশপকে। অভিষিক্ত সেই স্পিনার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন প্রথম ইনিংসে।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধসের সূচনা করেন বিশপই। সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে দেন তিনি, পরে বিদায় করেন ৪২ রান করা তাওহিদ হৃদয়কে। পরের দুই দিনে নানা মোড় পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ম্যাচের ঠিক আগে একাদশে বদল আনার সেই কাহিনী চেইস শোনালেন ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে।

Image

ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নায়ক ওয়ারিক্যান। ছবি: বিসিবি। 

“প্রথম দিন মাঠে এসে এতটা ঘাস কেটে ফেলা দেখে আমরা বেশ অবাক হয়েছিলাম। আমি ভাবিনি যে উইকেটে বল এতটা নিচু হবে। (উইকেট দেখার পর) আমরা একেবারে শেষ মুহূর্তে রোচকে বাদ দিয়ে বিশপকে দলে নিলাম।

এটা আমাদের পক্ষেই কাজ করেছে, কারণ উইকেটটা সবুজ হলেও, আমার মনে হয়েছিল এর নিচের দিকটা শুকনো। তাই যখন সবুজ ঘাসগুলো কেটে ফেলা হলো, আমার মনে হয়েছিল এটা স্পিনারদের জন্য আরও বেশি উপযুক্ত হবে। এ কারণেই আমরা বিশপকে দলে নিয়েছিলাম এবং সে খেলায় ভালো প্রভাব রেখেছে। তাই আমার মনে হয়, আমরা কন্ডিশনটা সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছিলাম।”

অভিষেকে বিশপ ছাপ রেখেছেন বটে, তবে দলকে জেতানোয় বড় ভূমিকা রেখেছেন চেইস নিজে ও বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান। ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছেন ওয়ারিক্যান, দ্বিতীয় ইনিংসে চেইস নিয়েছেন ৫টি।

বাংলাদেশের তিন স্পিনার মিলে ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন মোটে ৮টি। সেখানে তিন ক্যারিবিয়ান স্পিনার মিলে ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন দ্বিগুণ উইকেট।

ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের কণ্ঠে ফুটে উঠল সেই তৃপ্তি। কৃতিত্ব দিলেন তিনি দুই পেসার জেডেন সিলস ও শামার জোসেফকেও।

“জোমেল ওয়ারিক্যানের নেতৃত্বে আমাদের স্পিন আক্রমণ দারুণ মানসম্মত। তাকে আমি বহু বছর ধরে চিনি, সে আমার সঙ্গেই স্কুলে পড়ত এবং দারুণ দক্ষ। সে ক্রমাগত উন্নতি করছে এবং যখনই সুযোগ পায়, ভালো খেলে। তার এই দিকটা আমার ভালো লাগে। সে আমাদের স্পিন বোলিং ইউনিটকে নেতৃত্ব দিয়ে ভালো করার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তাকে সাধুবাদ জানাতে চাই।

“শুধু স্পিনারদেরই নয়, আমার মনে হয়েছে পেসাররাও রান রেট নিয়ন্ত্রণে আমাদের সত্যিই সাহায্য করেছে। তারা খুব বেশি রান দেয়নি। আমার মনে হয়েছে, প্রথম দিনের সম্ভবত দ্বিতীয় ঘণ্টা বাদে, আমরা নিজেদের সেরা ছন্দে ছিলাম এবং আমাদের লাইন ও লেংথের বোলিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছিলাম। তাই, যেমনটা বললাম, বোলিং ইউনিটকে অভিনন্দন।”

স্পিনারদের দারুণ পারফরম্যান্সের পরও কাজ কিছুটা বাকি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শেষ ইনিংসে ১৭০ রান তাড়া করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা সেই চ্যালেঞ্জ জিতে যান অনায়াসেই।

চেইস বললেন, রান তাড়ায় জয়ের বিশ্বাস তার ছিল।

“আমার মনে হয়েছিল, ১৭০ রান আমরা করতে পারব। কারণ উইকেট তখনও বেশ ভালো ছিল। মনে হয়নি উইকেটে কোনো সমস্যা ছিল, এটা তখনও ধারাবাহিক ছিল। কিছুটা বাউন্সও ছিল, সম্ভবত ঢাকায় এই প্রথম আমি এত বাউন্সের কোনো উইকেট দেখলাম।

তারপর দ্বিতীয় ইনিংসে ওই রান তাড়া করতে নেমে আমি শুধু চেয়েছিলাম ছেলেরা যেন আমাদের একটা ভালো শুরু এনে দেয়, কারণ আমার মনে হয়, রান তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই অনেকগুলো উইকেট হারিয়ে ফেললে ড্রেসিংরুমে একটা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তাই শুধু চেয়েছিলাম আমরা যেন মাঠে নেমে একটা ভালো শুরু করি এবং আমার মনে হয়েছিল সেটাই ছিল মূল চাবিকাঠি এবং আমরা তা করতে পেরেছি।”

ম্যাচ জিতে খুশি হলেও উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছেন না চেইস। প্রত্যয়ী কণ্ঠে জানালেন, পরের টেস্ট জিতেই কাজ শেষ করতে চান তারা।

“নিঃসন্দেহে যেকোনো কন্ডিশনে যেকোনো জায়গায় টেস্ট ম্যাচ জেতাটা এক দারুণ অনুভূতি। কিন্তু আমরা এখানে সিরিজ জিততে এসেছি, তাই আমাদের ঠিক এই শুরুটাই দরকার ছিল। আমরা দুটো ম্যাচই জিততে চাই, তাই এটা তো দুই পর্বের প্রথম পর্ব মাত্র।”