ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জানাতে চান না, তাই পিচ নিয়ে কিছু বললেন না অধিনায়ক
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে মিরপুরের উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে রহস্য জিইয়ে রাখলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
টেস্টের আগের দিন সকালেও মিরপুরের উইকেটের চেহারা চমক জাগানিয়া। সবুজ ঘাসে ভরা পিচ, যেন নিউ জিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো মাঠ! সেই চিত্র অবশ্য বদলে গেছে পরে। দুপুর গড়ানোর আগেই অনেকটা ছেঁটে দেওয়া হয় ঘাস। তার পরও অবশ্য সবুজের ছোঁয়া বেশ রয়েই গেছে। রয়ে গেছে তাই উইকেটের সম্ভাব্য আচরণ নিয়ে কৌতূহলও। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও জিইয়ে রাখলেন সেই রহস্য।
টেস্ট ম্যাচের আগে বরাবরই বাড়তি আগ্রহ থাকে উইকেট নিয়ে। খেলা যখন মিরপুরে, আগ্রহের মাত্রাও বেড়ে যায় অনেক। দেশের প্রধান ক্রিকেট ভেন্যুর উইকেট নানা সময়েই আবির্ভুত হয় নানা রূপে। অনেক সময় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররাও মিরপুরের উইকেটের আচার-আচরণ ঠাউরে উঠতে পারেন না।
এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার আগে টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা বেশ সময় নিয়েই আলোচনা করলেন উইকেটের পাশে দাঁড়িয়ে। সিরিজের ট্রফি উন্মোচনের আগে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারকে নিয়ে নিবিড়ভাবে উইকেট দেখেন অধিনায়ক শান্ত। সেখানে তখ পরিচর্যায় ব্যস্ত বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্টের প্রধান টনি হেমিং। চারজন মিলে অনেকটা সময় ধরে চলল আলোচনা।
উইকেটের মাঝে বসে আঙুল দিয়ে টিপে টিপে কিছু সব কিছু বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টাই যেন করছিলেন হেমিং। তাদের আলোচনার মাঝেই সেখানে যোগ দেন অন্য দুই নির্বাচক নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। হেমিংয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষে উইকেটের পাশে আরেক দফায় লম্বা আলোচনা হয়ে যায় ওই ছয়জনের।
ওই আলোচনার আগেই সংবাদ সম্মেলন উইকেট সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে বেশি কিছু খোলাসা করতে চাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“অবশ্যই এখন পেস বোলিং এবং স্পিন বোলিং- দুই দিকেই আমরা ভালো অবস্থানে আছি। তাই এটা (উইকেটের আচরণ) নিয়ে এখানে বলতে চাই না... ওয়েস্ট ইন্ডিজও প্রেস কনফারেন্স দেখতে পারে। আমার মনে হয় যে, কন্ডিশন আমাদের জন্য যেটা মানানসই হবে, ওই অনুযায়ী আমরা যাব।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য মঙ্গলবার দিনটি ছিল বিশ্রামের। ট্রফি উন্মোচন ও সংবাদ সম্মেলনের জন্য শুধু মাঠে আসেন অধিনায়ক রস্টন চেইস। আগের দিন অনুশীলন শেষে উইকেট দেখতে গিয়ে সবুজ গালিচাই দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। তবে ম্যাচের উইকেটে যে এত বেশি ঘাস রাখা হবে না, তা ভালোভাবেই জানা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের।
“গতকাল উইকেট দেখেছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় না, আগামীকাল ম্যাচের জন্য উইকেট ঠিক এমনই রাখা হবে। আমার ধারণা, তারা হয়তো ঘাস কিছুটা ছেঁটে ফেলবে কিংবা পিচ প্রস্তুত করার জন্য আরও একটু কাজ করবে।”
আগের দিন উইকেট দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই স্পিন সহায়ক পিচের আভাস দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।
“ঘাস দেখে মনে হতে পারে যে এটি স্পিন-বান্ধব হতে পারে। কিন্তু একটু খুঁটিয়ে দেখলে মনে হয়, এর নিচের অংশ এখনও কিছুটা শুষ্ক। এটা তো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মূলত স্পিনের জন্যই বেশি পরিচিত, তাই আমাদের ধারণা এখানেও কিছুটা স্পিন দেখা যাবে।”
সংবাদ সম্মেলন শেষ করে ফেরার পথে উইকেটের কাছে গিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন চেইস। তবে তার কাছে বিষয়টা পরিষ্কার, সম্ভাব্য সব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই পেতে হবে কাঙ্ক্ষিত ফল।
“পিচ যেমনই হোক, দুই দলকেই তো এখানেই খেলতে হবে। এটি এমন কোনো উইকেট নয়, যেখানে এক দল সুবিধা পাবে, অন্য দল পাবে না। ক্রিকেটে তো চারটা ইনিংসই খেলতে হয়। উইকেটে যে দল সবচেয়ে ভালোভাবে নিজেদের মানিয়ে নিতে ও মানিয়ে চলতে পারবে, শেষ পর্যন্ত তারাই জয়ী হবে বলে আমার মনে হয়।”
