৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

উইন্ডিজের কৃতিত্বের চেয়ে নিজেদের ব্যর্থতাই বেশি দেখছেন শান্ত

বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যতটা না ভালো খেলেছে, তার চেয়ে বেশি খারাপ খেলেছে বাংলাদেশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 06:27 PM

Updated : 31 Oct 2026, 06:27 PM

দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ জোমেল ওয়ারিক্যান। তবে তার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলা যায়, তিনি যতটা না ভালো বোলিং করেছেন, এর চেয়ে বাংলাদেশ খারাপ ব্যাটিং করেছে বেশি। শেষ ইনিংসে ১৭০ রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো ব্যাট করেছে বটে, তবে বাংলাদেশের স্পিনাররা ঠিক লেংথেই বল ফেলতে পারেননি।

এই মূল্যায়ন নাজমুল হোসেন শান্তর। মিরপুর টেস্ট শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর প্রতিক্রিয়ার সারমর্ম, ওয়েস্ট ইন্ডিজ যতটা না নিজেদের কৃতিত্বে জিতেছে, এর চেয়ে বেশি বাংলাদেশ নিজেদের ব্যর্থতায় হেরেছে।

তৃতীয় দিনে ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পরাজয় ডেকে আনে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে নাঈম হাসানের লড়িয়ে ফিফটিতে নতুন করে জেগে ওঠে আশা। ১৭০ রানের লক্ষ্যটা কঠিনই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুতেই কিছু হলো না। উল্টো ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনায়াসেই জিতে গেল ৮ উইকেট।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বললেন, রানটাকে যথেষ্টই মনে হয়েছিল তাদের। হতাম তিনি স্পিনারদের পারফরম্যান্সে।

“১৭০ হওয়ার পরে আমাদের বিশ্বাস ছিল যে, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব… উইকেটের যে অবস্থা ছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওটা হয়নি। অবশ্যই ওদেরকে একটু কৃতিত্ব দিতে হবে, তবে আমি বলব যে, আমরা এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।”

স্পিনারদের নিয়ে মূল আশা থাকলেও তিন স্পিনারেরই বোলিং ছিল একদম ধারহীন। তিন স্পিনার মিলে ২৮.১ ওভার বোলিং করেও উইকেট পাননি, রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি সাড়ে চারের বেশি।

স্পিনারদের ঘাটতিটা কোথায় ছিল, তুলে ধরলেন অধিনায়ক।

“আমার কাছে মনে হয় যে, লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে ঠিক পারিনি। লেংথটা একটু এলোমেলো ছিল। অন্যথায় এত সহজে ওরা ব্যাট করতে পারত না। বিশেষ করে, চতুর্থ ইনিংসের ব্যাটিংটা ওদের, আমরা মাত্র দুইটা উইকেট নিয়েছি। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত যদি সাত-আটটা উইকেটও নিতে পারতাম, তাহলে হয়তো বুঝতাম যে হয়তো আমরা রানটা কম করেছি। এই জায়গাটাতে আমার মনে হচ্ছে (বোলিং) একটু এলোমেলো ছিল।”

শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হারলেও প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে ২৭২ রানের স্কোরটা আরও বড় হতে পারত বলেই মনে করেন শান্ত। অধিনায়কের মতে, লিড পেলেও বাংলাদেশ আসলে হেরে গেছে সেখানেই।

“আমার মনে হয়, এই ম্যাচে আমরা প্রথম ইনিংসেই পিছিয়ে পড়েছি। প্রথম ইনিংসে উইকেট যেরকম ছিল এবং আমরা যেভাবে দিন শেষ করলাম, ৩ উইকেটে ২১৩ রানে শেষ করার পরে ২৭২ রান (অলআউট), আমার মনে হয় যে, ওখানে আমরা অনেকটা পেছনে চলে গেছি ম্যাচে।

:আমরা জানতাম যে পরের দিকে ব্যাটিং করাটা কঠিন হবে। তাই আমি বলব যে আমরা ভুলটা প্রথম ইনিংসেই করেছি এবং ওই জায়গাটাতে যদি আমরা আরেকটু বড় করতে পারতাম, তাহলে আমরা লিডটা আরেকটু বড় পেলে খেলাটা ভিন্ন হতে পারত।”

প্রথম ইনিংসে ৫১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করেন ওয়ারিক্যান। দ্বিতীয় ইনিংসে এই বাঁহাতি স্পিনার যোগ করেন আরও ৪ উইকেট।

তবে শান্তর স্থির বিশ্বাস, বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণেই ওয়ারিক্যান সফল হয়েছেন।

“আমি সত্যি বলতে, কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু আমার মনে হয় যে, সে (ওয়ারিক্যান) যতটুকু না ভালো বল করেছে, তার থেকে আমরা খারাপ ব্যাটিং বেশি করেছি। সত্যি বলতে, আমি তাকে অসম্মান করছি না। তবে আমার মনে হয়, আমরা তাকে আরেকটু ভালো পারতাম।”

ব্যাটসম্যানদের সেই ব্যর্থতায় শান্ত কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন নিজেকেই।

“আমার মনে, ব্যাটিংটা যে আমাদের ভালো হয়নি, এই জায়গায় সিনিয়র ব্যাটসম্যান হিসেবে…আমি আমার কথা বলতে পারি, আমার আরও বড় দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। কারণ আমি অনেক দিন ধরে খেলছি, এই কন্ডিশন নিয়ে অনেক পরিচিত আমি। আমি যদি এখান থেকে একটা বড় রান করতে পারতাম, তাহলে হয়তো দলের রান ২৭০-এর জায়গায় ৩৭০ হতে পারত।”

ম্যাচজুড়ে চোখে পড়ার মতো ছিল তাইজুল ইসলামের অকার্যকারিতাও। শেষ ইনিংসে একদমই প্রত্যামা পূরণ করতে পারেননি দেশের সফলতম টেস্ট বোলার, ক্যারিবিয়ানদের সেভাবে চাপে রাখতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে দুটি উইকেট নিলেও খুব বেশি পরীক্ষা নিতে পারেননি প্রতিপক্ষের।

শান্তও সেটি স্বীকার করছেন। তবে অভিজ্ঞ বোলারের ওপর ভরসাও রাখছেন অধিনায়ক।

“তাইজুল ভাই বছরের পর বছর অনেক ভালো বল করেন সবসময়। এই ম্যাচটা হয়তো একটু কম ভালো বোলিং করেছেন, আমি বলব। এটা হতেই পারে। আমাদের এত সেরা বোলার এত বছর ধরে পারফর্ম করছে, তাকে এত দ্রুত বিচার করা উচিত না। আমি বিশ্বাস করি যে, পরের টেস্টে উনি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন।”