১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

খরুচে মিরাজ, হেটমায়ারের সেঞ্চুরি ছাপিয়ে পাওয়েলের ক্যামিও

সিপিএলের শেষটা ভালো হলো না মিরাজের, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শিমরন হেটমায়ারের ৪৫ বলে সেঞ্চুরির পরও ম্যাচ হেরে বিদায় নিল গায়ানা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Sep 2026, 11:11 AM

Updated : 19 Sep 2026, 11:10 AM

জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন স্রেফ ছয় রানের। প্রথম বলে রান নিতে পারলেন না আন্দ্রে রাসেল। কিন্তু পরের টানা দুই ডেলিভারিতে ওয়াইড করে বসলেন বোলার রোমারিও শেফার্ড। ম্যাচের উত্তেজনা তখন শেষ বললেই চলে। কিন্তু পরের বলে রাসেলের বিদায়ে আবার একটু প্রাণ ফিরল ম্যাচে। তবে শেষ পর্যন্ত নাটকীয় কিছু হলো না। পরের দুই বলেই দুটি করে রান নিয়ে জ্যামাইকা কিংসমেন জিতে গেল দুই বল বাকি রেখে।

সিপিএলের প্রাথমিক পর্বে রান রেটে সামান্য এগিয়ে থেকে কোনোরকমে প্লে-অফে পৌঁছানো জ্যামাইকা দারুণভাবে ফাইনালে পৌঁছে গেল এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ার জিতে। প্রাথমিক পর্বের সেরা দল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স শেষ পর্যন্ত ফাইনালেই উঠতে পারল না টানা দুটি কোয়ালিফায়ার ম্যাচ হেরে গিয়ে।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে গায়ানার ২০৬ রান টপকে জ্যামাইকা জিতে যায় ৫ উইকেটে।

বিফলে যায় গায়ানার শিমরন হেটমায়ারের ৪৫ বলের সেঞ্চুরি। বল হাতে আসরের শেষটা ভালো হয়নি মেহেদী হাসান মিরাজের। ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে উইকেট পাননি বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার।

প্রথমবার সিপিএল অভিযানে প্রথম ৩ ম্যাচে ৯ উইকেট শিকারি মিরাজ পরের ২ ম্যাচে উইকেটের দেখা পেলেন না। শেষ ম্যাচে তিনি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। আগের ৪ ইনিংসে তার মোট রান ২১, স্ট্রাইক রেট ৪৮.৮৩।

বড় রান তাড়ায় জ্যামাইকার কোনো ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। একমাত্র ফিফটি করা কেসি কার্টি আউট হন ৫৬ রানে। কিন্তু সবার সম্মিলিত অবদানে ম্যাচ জিতে নেয় তারা। সেখানে শেষের নায়ক রভম্যান পাওয়েল। শেষ দিকে চার ছক্কায় ১৭ বলে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ হন তিনিই।

এই পাওয়েল আউট হতে পারতেন শেষের বেশ আগেই। তিন ওভারে যখন প্রয়োজন ৩৪ রান, ইমরান তাহিরের বলে সীমানায় তার ক্যাচ নেন মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়াল। তবে শেষ মুহূর্তে ভারসাম্য হারানোয় তিনি বল ছুড়ে দেন ওপরে, ছুটে এসে ক্যাচ নেন খ্যারি পিয়ের। বারবার টিভি রিপ্লে দেখে আম্পায়ার সিদ্ধান্ত দেন, বল ছুড়ে দেওয়ার আগেই ডিন্ডিয়ালের পা আলতো করে স্পর্শ করেছিল সীমানা, যেটির মানে ছক্কা!

পরে ওই ওভারে আরেকটি চার এবং পরের ওভারে শামার জোসেফকে চার ও ছক্কা মেরে ম্যাচ একরকম শেষ করে দেন পাওয়েল।

ব্রিজটাউনে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা গায়ানা দুই ওপেনার মোহাম্মদ হারিস (৯) ও ডিন্ডিয়ালকে (৯) হারায় দ্রুতই। পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মাত্র ৩৭।

হেটমায়ার নেমেই চিত্র বদলে দেন। ফিফটি করে ফেলেন তিনি ২০ বলেই। তার মতো দ্রুততায় রান তুলতে না পারলেও সঙ্গ দেন শেই হোপ। তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ে ওঠে ৯৬ রানের।

৩৩ বলে ৪০ করে আউট হন হোপ। এরপর কুয়েন্টিন স্যামসন করেন ১৭ বলে ২৯।

আরেকপাশে হেটমায়ারের ঝড় চলতেই থাকে। শেষ ওভার শুরু করেন তিনি ৯১ রান নিয়ে। প্রথম বলে সিঙ্গল নিয়ে অপর প্রান্তে চলে যান। আবার স্ট্রাইক পান তিনি পঞ্চম বলে। শতরানের জন্য তখন ২ বলে প্রয়োজন তার ৮ রান।

বোলার আন্দ্রে রাসেল যখন করে বসেন ফুল টস। হেটমায়ার বল পাঠিয়ে দেন গ্যালারিতে। শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে পৌঁছে যান তিনি সেঞ্চুরিতে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি এটি। তিনটিই করলেন সিপিএলে, এর দুটি এবারের আসরেই।

রান তাড়ায় জ্যামাইকাকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন মাজ সাদাকাত। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা তরুণ এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার এবারও বিধ্বংসী শুরু করেন। প্রথম ওভারে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে চার ও ছক্কায় শুরু করেন তিনি। দ্বিতীয় ওভারে দুই ছক্কা এক চার মারেন মিরাজকে। পরের ওভারে আবার তিনটি বাউন্ডারি মারেন প্রিটোরিয়াসকে।

ইনিংস অবশ্য বড় করতে পারেননি ২১ বছর বয়সী ক্রিকেটার। তবে ১৭ বলে ৪১ রান করে যখন আউট তিনি আউট হন, দলের রান ৩ ওভারে ৪২।

তার সঙ্গী ওপেনার কার্ক ম্যাকেঞ্জি ২০ বলে করেন ৩৪। ৪০ বলে ৫৬ করে রান আউট হন কেসি কার্টি। সাইম আইয়ু্ব ফেরেন ১৭ বলে ২৩ রান করে।

প্রথম দুই ওভারে ২৬ রান দেওয়া মিরাজ তৃতীয় ওভারে ঘুরে দাঁড়িয়ে রান দেন মাত্র দুই। কিন্তু তার শেষ ওভারে দুটি ছক্কা মারেন সাইম।

শেষ চার ওভারে জ্যামাইকার প্রয়োজন পড়ে তাদের ৪৮ রানের। সেই দাবি মিটিয়ে দলকে ফাইনালে তোলেন পাওয়েল।

প্রাথমিক পর্বে এই জ্যামাইকাকে দুই ম্যাচেই হারিয়েছিল গায়ানা। কিন্তু হেরে গেল তারা আসল ম্যাচটিতেই।

ফাইনালে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে মুখোমুখি হবে জ্যামাইকা কিংসমেন এবং অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স।