Published : 17 Jan 2026, 01:49 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনবরত গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার হুমকিতে উত্তেজনার যে পরদ চড়েছে সেই ‘উত্তাপ কমানোর’চেষ্টায় এবার ডেনমার্কে গেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দুই দলেরই আইনপ্রণেতারা।
শুক্রবার তারা রাজধানী কোপেনহেগেনে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। ১১ সদস্যের এই কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস কুনস।
এই প্রতিনিধিদলে আছেন দুইজন রিপাবলিকান সিনেটর টম টিলিস এবং লিসা মারকোস্কি। আর বাকি সবাই ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা।
দলের নেতা সিনেটর ক্রিস কুনস ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেন এবং ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনপ্রণেতারা ঘরে ফিরে ‘উত্তাপ কমানোর চেষ্টা নেবে’। কুনস জানান, এই (ডেনমার্ক) সফরের মাধ্যমে তারা স্থানীয়দের বক্তব্য শুনবেন এবং উত্তাপ কমাতে ওয়াশিংটনে গিয়ে তাদের দৃষ্টিকোণ জানাবেন।”
তাছাড়া, ডেনমার্কে এই সফরের মধ্য দিয়ে আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের হুমকির মুখে গ্রিনল্যান্ডকে মিত্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থনেরও আশ্বাস দেবেন।
তবে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত শুক্রবার বলেছেন, তিনি মার্চে ডেনমার্কে যাবেন এবং তার বিশ্বাস, একটি চুক্তি করা সম্ভব হবে। ‘প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড নিয়ে খুবই সিরিয়াস’ বলে ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।
ট্রাম্প শুক্রবারেই বলেছেন, তার পরিকল্পনা সমর্থন যারা করবে না, সেইসব দেশের ওপর তিনি শুল্ক চাপাতে পারেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।
তবে গ্রিনল্যান্ড নেওয়া প্রয়োজন কিনা সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কি বলছে তার ওপর জোর দিয়েছেন ডেনমার্ক সফরে যাওয়া কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের রিপাবলিকান সিনেটর মার্কোস্কি।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি মনে করি এ বিষয়টি সামনে আনাটা গুরুত্বপূর্ণ যে, আমেরিকানদেরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়া ভাল মনে করে কিনা, তখন বেশিরভাগ মানুষই, সেটি হতে পারে ৭৫ শতাংশ, বলবে আমরা মনে করি না যে এটি ভাল হবে।”
নিজের কথা উল্লেখ করে মার্কোস্কি বলেন, “আলাস্কার এই সিনেটরও মনে করেন না যে এটি ভাল হবে।”
ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি এবং বিরোধীদল ডেমেক্র্যাটিক পার্টি উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই বলেছেন, তারা গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার ট্রাম্পের ক্ষমতার রাশ টেনে ধরতে আইন প্রনয়ণকে সমর্থন দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এরই মধ্যে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা ঠেকানো এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের সুযোগ করে দেওয়ার ভিন্নমুখী উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান প্রতিনিধি র্যান্ডি ফাইন ‘গ্রিনল্যান্ড অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড স্টেটহুড অ্যাক্ট’ নামের বিল উত্থাপন করেছেন। এটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখলের ক্ষমতা পাবেন।
এর বিপরীতে, ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জিমি গোমেজ ‘গ্রিনল্যান্ড সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা আইন’ প্রস্তাব করছেন, যাতে এ ধরনের উদ্যোগে ফেডারেল তহবিল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়।
তাছাড়া, মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফাভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা ঠেকাতে সেনেটে আইন আনা হতে পারে।
ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা প্রয়োজন। ট্রাম্প বলেছেন, “একভাবে বা অন্যভাবে আমরা গ্রিনল্যান্ড নেব,”। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যদিও তিনি ডেনমার্কের সঙ্গে সমঝোতার কথাও বলেছেন, তবু প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তবে গ্রিনল্যান্ড সরকার ও ডেনমার্ক- উভয়ই ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট করেই জানিয়ে আসছে যে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকি ‘বেপরোয়া’ কাজ। তারা ইতিমধ্যেই ২০২৬ সাল জুড়ে আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ডেনমার্ক এক নতুন বিবৃতিতে বলেছে, “তাদের সশস্ত্র বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।” ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, গ্রিনল্যান্ড এবং এর আশেপাশে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি থাকবে।
এই সামরিক উপস্থিতিতে অবদান রাখবে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন এবং নরওয়েও। ডেনমার্কের নেতৃত্বাধীন অপারেশন আর্কটিক এনডিওরেন্স মহড়ায় এই দেশগুলো যোগ দিচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করতে ফ্রান্স, জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ থেকে সেনা দ্বীপটিতে পৌঁছতে শুরু করেছে। নরওয়ে এবং সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্যের সেনারাও গ্রিনল্যান্ডের মিশনে যোগ দিচ্ছে।