Published : 03 Jun 2026, 12:50 PM
রাশিয়া শত শত ড্রোন ও ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেইনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে আর এতে অন্তত ২৩ জন নিহত ও আরও ১৩০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোররাতে চালানো এ হামলার পর ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মস্কো টানা দ্বিতীয় রাতের মতো নতুন করে হামলা চালাতে পারে।
গত সপ্তাহে ক্রেমলিন সতর্ক করে বলেছিল, তারা কিইভের লক্ষ্যস্থলগুলোতে ‘পরিকল্পিত আঘাত’ হানবে। ইউক্রেইনের রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চল লুহানস্কে এক ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মস্কো এ হুমকি দেয়। ইউক্রেইন ওই হামলার দায় অস্বীকার করেছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এ হামলায় রাশিয়া ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬৫০টির মতো ড্রোন ব্যবহার করেছে আর মঙ্গলবার দিনভর আরও শতাধিক ড্রোন দিয়ে আঘাত হেনেছে।
এদিন মূল হামলাগুলো চালানো হয় ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভ ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর কিইভের সুউচ্চ ভবনগুলোতে বিস্ফোরণ ও সেখানে থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডুলি উঠতে দেখা যায়। এখানে রাতভর হামলায় সাতজন নিহত ও শিশুসহ ৯০ জন আহত হয় বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। সাতজনের মধ্যে একজন হাসপাতালে মারা গেছে।

এক হামলাস্থলে ধূলি ধূসরিত পোশাকে নিজের ছয় বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওলহা মুদ্রা বলেন, “কী ঘটছে কিছুই বঝুতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল কোনো এক ধরনের মহাপ্রলয়?”
দনিপ্রোর স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহটির দুটি শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছে। পরে দিনে নতুন করে চালানো হামলায় আরও অন্তত দুইজন আহত হয়।
কিইভে অন্তত নয়টি সুউচ্চ ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন, একটি ক্লিনিক, বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, এ হামলার কারণে নগরীয় ১৪ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হামলা থেকে বাঁচতে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ কিইভের ভূগর্ভস্থ রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেয়। সংখ্যায় এটি কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিছু মানুষ পোষা প্রাণী, তোশক ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে হাজির হয়।
রাশিয়ার অধিকৃত দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রধান জানিয়েছেন, সেখানে ইউক্রেইনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছে।

ইউক্রেইনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৬৫৬টি ড্রোন ও ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, অধিকাংশই কিইভকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানিয়েছে, তারা ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০২টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে অথবা ধ্বংস করেছে।
বিমান বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে গুলি করে ধ্বংস করা কঠিন এমন ৩৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আটটি জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এই যুদ্ধে এই প্রথম একসঙ্গে এতোগুলো জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হল।
মস্কোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে নয়গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে আর এগুলোর পাল্লা ১০০০ কিলোমিটার।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লক্ষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোতে তারা ‘ব্যাপক আঘাত’ হেনেছে।