Published : 18 Jun 2026, 01:40 PM
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
যুদ্ধ চলাকালে শি ও পুতিন ‘নিরপেক্ষ’ ছিলেন, এমনটি বর্ণনা করে বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, এই নেতারা তার ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেননি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, “আমি শুধু তাদের ধন্যবাদ দিতে চাই, কারণ তারা এটি আরও ভালো করে তুলেছেন।”
ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-বেঁ শহরে জি৭ এর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি ওই নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
ট্রাম্প বলেন, “আমি চীনকে, প্রেসিডেন্ট শি-কে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি তার সঙ্গে ছিলাম আর তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন, পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিলেন, আর আমি এর প্রশংসা করি।”
তিনি আরও বলেন, “আর আমি ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ দিতে চাই। তিনি খুব নিরপেক্ষ ছিলেন। তারা এটি আমাদের জন্য অনেক কঠিন করে তুলতে পারতেন।”
রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের এসব মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জাপান ও ইউরোপের জন্য করা মন্তব্যগুলোর বিপরীত। ইরানের চালানো তার ‘সামরিক অভিযানে’ বা এরপর ইরানের বন্ধ করে রাখা হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে এই মিত্ররা সাহায্য করেনি অভিযোগ করে তাদের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
মস্কো ও বেইজিং তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। রাশিয়া বলেছে, এই যুদ্ধের ফলে পশ্চিম এশিয়ায় পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
তেহরানে ওয়াশিংটনের হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের নির্লজ্জ লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত লোকজন জানিয়েছেন, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ছিল যে বেইজিং তেহরানকে এমন পণ্য সরবরাহ করছে যেগুলো সামরিকভাবেও ব্যবহার করা যায়। যুদ্ধ চলাকালে চীনের স্বনির্ভর তেল শোধনাগারগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ইরানের প্রধান ক্রেতা হয়ে উঠৈছিল।
কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন, এই সংঘাত নিরসনে শি সহায়ক ছিলেন আর ‘বড় অস্ত্রশস্ত্র’ বা কাঁধ থেকে ছুড়তে সক্ষম ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো এড়িয়ে গেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “তারা দুই পাশে ছয়টি ডেস্ট্রয়ার সঙ্গে দিয়ে একটি তেলের জাহাজ পাঠাতে পারতো। তারা তা করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন আর আমার মনে হয় তিনি সম্ভবত এটি সমাধানে সাহায্য করেছিলেন।”
ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাদের অবস্থান ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল আর তারা ‘যুদ্ধের অবসান ও শান্তির জন্য‘ নিরলস পরিশ্রম করে চলছে।
ওয়াশিংটনের রাশিয়ার দূতাবাস এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট