Published : 09 May 2026, 12:31 AM
বিলাসবহুল একটি প্রমোদতরীতে শুরু হওয়া হান্টাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে এবার স্পেন এবং দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপ ত্রিস্তান দা কুনহায় নতুন করে দুইজনের দেহে এই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
শুক্রবার হাজার হাজার মাইল দূরত্বের দুটি ভিন্ন স্থানে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের সন্দেহে ওই দুইজন শনাক্ত হওয়ার খবরে আরও অনেকেরই ভাইরাসটি আক্রান্ত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে।
যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখন পর্যন্ত আশ্বস্ত করে বলেছে যে, এই ভাইরাসে সাধারণ জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কম এবং এটি সহজে একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় না।
স্পেন ও ত্রিস্তান দা কুনহার পরিস্থিতি:
স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আলিকান্তে ৩২ বছর বয়সী এক নারীর দেহে হান্টাভাইরাসের মতো উপসর্গ দেখা গেছে। তাকে বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্পেনের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হাভিয়ের পাদিলে জানান, ওই নারী উড়োজাহাজে এমন একজন ডাচ নারীর ঠিক পেছনের আসনে ছিলেন, যিনি প্রমোদতরী ‘এমভি হন্দিয়াস’ থেকে হান্টাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছিলেন।
ওই ডাচ নারী গত ২৫ এপ্রিল জোহানেসবার্গ থেকে উড়োজাহাজটি ওড়ার আগেই অসুস্থ বোধ করে নেমে যান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি জানিয়েছে, ত্রিস্তান দা কুনহা দ্বীপে এক ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমণের সন্দেহ করা হচ্ছে।
তিনি ডাচ পতাকাবাহী ওই প্রমোদতরিটিরই একজন যাত্রী ছিলেন, যা গত ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দ্বীপটিতে যাত্রা বিরতি করেছিল।
তবে ডব্লিউএইচও-র ভাইরাস বিশেষজ্ঞ আনাইস ল্যাগান্ড এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেছেন, “প্রমোদতরীতে থাকা এবং সেখান থেকে নেমে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ভাইরাসটি যেভাবে ছড়াচ্ছে তা বিশ্লেষণ করে আমরা এখনও বলছি যে, সাধারণ জনগণের জন্য এটি সংক্রমণের ঝুঁকি কম।”
প্রমোদতরী থেকে শুরু হওয়া প্রথম সংক্রমণ:
গত মার্চ মাসে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল প্রমোদতরী ‘এমভি হন্দিয়াস’।
অ্যান্টার্কটিকা ও অন্যান্য স্থানে বিরতি দিয়ে এটি আফ্রিকার পশ্চিমে কেপ ভার্দে জলসীমায় পৌঁছানোর পর যাত্রীদের মধ্যে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের খবরটি সামনে আসে।
ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে যে, এই সংক্রমণের পেছনে হান্টাভাইরাসের ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ দায়ী। এটিই হান্টাভাইরাসের একমাত্র ধরণ যা মানুষের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
তবে এটি কেবল সংক্রমিত ব্যক্তির দীর্ঘক্ষণ অতি নিবিড় সংস্পর্শে থাকলেই অন্যের শরীরে ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। এখন পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।