Published : 25 Dec 2025, 11:53 AM
ভেনেজুয়েলার তেল অন্তত দুমাসের জন্য প্রায় একান্তভাবে ‘কোয়ারেন্টিন’ (অবরুদ্ধ) করে রাখার ওপর মনোনিবেশ করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন। এ থেকে এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে যে, ওয়াশিংটন আপাতত ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়াতে সামরিক পন্থার তুলনায় অর্থনৈতিক পন্থা কাজে লাগাতেই বেশি আগ্রহী।
বুধবার ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “সামরিক শক্তি প্রয়োগ সবসময়ই একটি বিকল্প, তবে হোয়াইট হাউজের কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের জন্য প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পন্থা কাজে লাগানো হচ্ছে।”
তবে সামরিক বাহিনী ‘প্রায় একান্তভাবে’ এই কোয়ারেন্টিনে কীভাবে মনোনিবেশ করবে, তা স্পষ্ট করে বলেননি এই কর্মকর্তা।
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ইতোমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। এর মধ্যে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং এক ডজনের বেশি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ভেনেজুয়েলার বিষয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সংযত থাকলেও, ব্যক্তিগতভাবে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ক্ষমতা ছাড়লে মাদুরোর জন্য তা ‘বুদ্ধিমানের’ কাজ হবে। মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপগুলো মাদুরোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে।
জানুয়ারির শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে রাজি না হলে ভেনেজুয়েলা গুরুতর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের জন্য বহুদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন ট্রাম্প। তার প্রশাসন মাসের পর মাস ধরে ল্যাটিন অঞ্চল থেকে আসা সন্দেহজনক নৌযানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
ট্রাম্প স্থলভাগে মাদক অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন এবং কারাকাসকে নিশানা করে গোপন সিআইএ অভিযানের অনুমোদনও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে বলেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত কতে তারা সর্বোচ্চ পরিসরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং কার্যকর করবে।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যাতায়াত করা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজগুলো ‘অবরোধ’ করার নির্দেশ দেন। সেই থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন কোস্টগার্ড ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলে ভরা দুটি ট্যাংকার আটক করেছে।
তাছাড়া, মার্কিন কোস্ট গার্ড তৃতীয় একটি ট্যাংকারের পিছু নেয়, যাকে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভেনেজুয়েলার ‘ডার্ক ফ্লিট’এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এবার ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাংকারগুলো ‘অবরোধ’-এর বদলে হোয়াইট হাউজ ‘কোয়ারেন্টাইন’ শব্দ ব্যবহার করেছে। এতে ১৯৬২ সালের কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময়কার শব্দচয়নের পুনরাবৃত্তিই দেখা যাচ্ছে।
ওই সময় যুদ্ধ এড়াতে জন এফ কেনেডি প্রশাসন একই শব্দ ব্যবহার করেছিল। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের এমন শক্তি ব্যবহারের পদক্ষেপকে “অবৈধ সশস্ত্র আগ্রাসন” বলে সমালোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা বলেন, “ভেনেজুয়েলা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র সরকারই আসল হুমকি।”