Published : 19 Jun 2026, 10:05 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলতে ‘অনুনয়’ করেছিলেন বলে যে দাবি উঠেছে, তা সরাসরি নাকচ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তিনি বা ইতালি কারো কাছে হাত পাতেন না বা ভিক্ষা করেন না।
ছবি তোলার ‘অনুনয়’ বিষয়ক ট্রাম্পের দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি।
শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় উল্টো ট্রাম্পের নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।
ছবি তোলা বিষয়ক ট্রাম্পের মন্তব্যে ‘হতবাক’ মেলোনি বলেন, “আমি জানি না মার্কিন প্রেসিডেন্ট বন্ধুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন। শুধু এটাই বলতে পারি, অত্যন্ত দুঃখজনক যে তিনি পশ্চিমা দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোরতা দেখান না। ওসব দেশগুলোর নেতাদের প্রতি বরং তিনি অনেক বেশি নমনীয় বা আপসকামী।”
চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করতে দেখা যায়। পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই।
এর পরেই ট্রাম্প ফোনে ইতালির একটি টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, সম্মেলন চলাকালে মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘আক্ষরিক অর্থেই’ মিনতি করেছিলেন। মেলোনির জন্য সে সময় তার ‘মায়া’ লাগছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ইতালিজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের মন্তব্যে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে এই বাদানুবাদ প্রমাণ করে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর থেকে গত কয়েক মাসে ইতালি ও মেলোনির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পর্কে বড় ধরনের ‘ফাটল’ ধরেছে।
বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বও শুরু হয়েছে। মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্রে তার পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।
বিবিসি লিখেছে, সার্বিক বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তারা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
মেলোনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। এর জেরে গত এপ্রিলে ইতালির একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সে সাহসী। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম।”
ট্রাম্প যখন পরে পোপ চতুর্দশ লিওকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন, তখন মেলোনি সেই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
এদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা।
দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সেনেটর ফিলিপ্পো সেনসিও বলেছেন, “ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন অহংকারী সুরে কথা বলার অধিকার কারও নেই।”