১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজা থেকে আরও ৬ জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার ইসরায়েলের

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার ভূগর্ভ টানেলে ৬ জিম্মির মৃতদেহ পাওয়ার পর সেগুলো ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গাজা থেকে আরও ৬ জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার ইসরায়েলের
জিম্মি পরিবার ফোরাম

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2024, 04:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:23 AM

ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার দক্ষিণাঞ্চলের একটি টানেল থেকে আরও ছয় জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী রোববার বলেছে, সেখানে ইসরায়েলি সেনারা পৌঁছানোর অনেক আগে এদের হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হয়নি। 

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগরি এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমাদের প্রাথমিক অনুমান হচ্ছে, আমরা তাদের কাছে পৌঁছানোর অল্প সময় আগে হামাসের সন্ত্রাসীরা তাদের নৃশংসভাবে খুন করেছে।”  

তিনি জানান, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার ভূগর্ভে ছয় জিম্মির মৃতদেহ পাওয়ার পর সেগুলো ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। 

এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। বাকি জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে দেশে-বিদেশে প্রবল চাপের মুখে আছেন তিনি। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, যে ছয়জন জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে তাদের মধ্যে ইসরায়েলি-আমেরিকান গোল্ডবার্গ-পোলিনের লাশও আছে। 

হোয়াইট হাউজের প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেছেন, “আমি বিধ্বস্ত ও ক্ষুব্ধ।“ 

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইজ্জত আল-রেশিক বলেছেন, এসব মৃত্যুর জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করা ইসরায়েল দায়ী।   

রিয়ার অ্যাডমিরাল হাগরি জানান, কয়েকদিন আগে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বেদুঈন সম্প্রদায়ের সদস্য জিম্মি কায়িদ ফারহান আলকাদিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। 

তিনি আরও জানান, আলকাদিকে খুঁজে পাওয়ার পর সেনাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল, কারণ ওই এলাকায় আরও জিম্মি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, কিন্তু পরে তাদের অবস্থানের বিষয়ে আর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। 

গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়ে প্রায় ১২০০ জনকে হত্যার পর প্রায় ২৫০ জনকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে রাখে। যাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে তারা ওই জিম্মিদেরই অংশ। 

হামাসের আক্রমণের প্রতিশোধ নিতে ওই দিন থেকেই গাজায় ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তারপর থেকে প্রায় ১১ মাস ধরে চলা তাদের নির্বিচার আক্রমণে ৪০৬৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৯৪০৬০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।