Published : 28 Mar 2026, 12:29 AM
যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি পেয়ে ‘এক তারকা জেনারেল’ হওয়া আটকে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ; এর মধ্যে দুজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং অপর দুজন নারী।
জাতিগত কিংবা লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে এখন।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতির তালিকায় প্রায় তিন ডজন কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্বেতাঙ্গ পুরুষ।
ওই কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ কয়েক মাস ধরে ওই চারজনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল পি ড্রিসকলসহ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের ওপর ‘চাপ প্রয়োগ’ করে আসছেন। কিন্তু ড্রিসকল ওই কর্মকর্তাদের কয়েক দশকের সেবার কথা তুলে ধরে বারবার এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ একতরফাভাবে পদোন্নতির তালিকা থেকে ওই কর্মকর্তাদের নাম বাদ দেন। তবে এমনটা করার আইনি কর্তৃত্ব তার আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পদোন্নতির সেই তালিকা বর্তমানে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনায় রয়েছে। তালিকাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেনেটে পাঠানো হবে।
সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকায় এখনো হাতেগোনা কয়েকজন নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ কর্মকর্তা রয়েছেন।
‘এক তারকা’ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের তালিকার ওপর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন নিবিড় ও কঠোর নজরদারি চালানোকে বিরল ঘটনা বলছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
হেগসেথ এর আগে দাবি করেছিলেন, বর্তমান মার্কিন নীতিগুলো শ্বেতাঙ্গ কর্মকর্তাদের প্রতি ‘বৈষম্যমূলক’, আর তিনি তা পরিবর্তন করতে চান। ফলে চারজন সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দেওয়ার ঘটনা ‘তিক্ত বিভেদকে’ সামনে আনছে।
হেগসেথ বারবার বলেছেন, তিনি আগের প্রশাসনগুলোর ‘নির্বোধ’ ও ‘বেপরোয়া’ নেতাদের মাধ্যমে ‘কলুষিত’ সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, নারী ও সংখ্যালঘু কর্মকর্তাদের ওপর এই কঠোর নজরদারি পদোন্নতির ওপর আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়ার কথা।
১১ জন বর্তমান ও প্রাক্তন সামরিক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ প্রতিবেদন তৈরির কথা লিখেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। এ কর্মকর্তারা গোপনীয়তার কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি।
কর্মকর্তারা বলছেন, গত গ্রীষ্মে হেগসেথের চিফ অব স্টাফ রিকি বুরিয়া ও আর্মি সেক্রেটারি ড্রিসকলের মধ্যে অন্য একটি পদোন্নতি নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় হেগসেথের এই পদ্ধতির প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
ওই ব্যাপারে অবগত তিনজন বর্তমান ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তার মতে, মেজর জেনারেল অ্যান্টোনেট আর গ্যান্টকে ‘মিলিটারি ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন’ কমান্ডে নেওয়ার জন্য নির্বাচিত করায় আর্মি সেক্রেটারি ড্রিসকলকে তিরস্কার করেন বুরিয়া। মেজর জেনারেল অ্যান্টোনেট আর গ্যান্ট একজন তুখোড় ‘কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার’। তিনি ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
‘মিলিটারি ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন’কমান্ডের কাজ হল রাজধানীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করা। এ কমান্ডের প্রধানকে প্রায়ই আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রিতে প্রেসিডেন্টের পাশে দেখা যায়।
বুরিয়া তখন সরাসরি ড্রিসকলকে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক অনুষ্ঠানগুলোতে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী কর্মকর্তার পাশে দাঁড়াতে চাইবেন না। এ কথা শুনে ড্রিসকল ব্যথিত হন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ড্রিসকল তখন স্পষ্টভাবে বুরিয়াকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বর্ণবাদী বা নারীবিদ্বেষী নন’। এরপর ড্রিসকল বিষয়টি হোয়াইট হাউসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেন, যিনি ট্রাম্প সম্পর্কে ড্রিসকলের ভাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
শেষ পর্যন্ত হেগসেথের দপ্তর তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। জেনারেল গ্যান্ট গত গ্রীষ্মে ওই পদে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি ‘দুই তারকা’ র্যাংকে পদোন্নতি পান।
পেন্টাগন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি বুরিয়া ও ড্রিসকলের মধ্যকার সেই উত্তপ্ত আলাপ নিয়ে করা প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের অধীনে সামরিক পদোন্নতি কেবল তাদেরই দেওয়া হয়, যারা তা অর্জন করেন।”
পদোন্নতির এই প্রক্রিয়াকে ‘অরাজনৈতিক ও পক্ষপাতহীন’ বলে দাবি করে এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন মুখপাত্র শন পারনেল।
হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পদোন্নতির তালিকা কিংবা বুরিয়ার মন্তব্য নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি হেগসেথের প্রশংসা করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি পেন্টাগনের সব স্তরে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন বা মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা ফেরানোর অসাধারণ কাজ করছেন।”
বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।