Published : 14 May 2026, 10:12 PM
বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক ধারণার দিক থেকে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরানকেও ছাড়িয়ে গেছে ইসরায়েল।
বৈশ্বিক জনমত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নিরা ডেটা’র প্রকাশিত ২০২৬ সালের গণতন্ত্র ও দেশ-ভাবমূর্তি বিষয়ক এক বৈশ্বিক জরিপে বর্তমানে ইসরায়েল বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশ হিসেবে উঠে এসেছে।
ইসরায়েলের পাশাপাশি বিশ্বে অবস্থানের দিক থেকে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচটি দেশের তালিকায় নাম উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের।
বিপরীতে সবচেয়ে ইতিবাচক রাষ্ট্র হিসেবে তালিকায় নাম এসেছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালির।
‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ শীর্ষক এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার মতামত নেওয়া হয়েছে। মোট ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গি এখানে মূল্যায়ন করা হয়।
একই সঙ্গে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জনের ওপর করা ‘ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ বা গণতন্ত্রের ধারণা সূচকও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
গাজায় হত্যাযজ্ঞ, ফিলিস্তিনিদের গণ-বাস্তুচ্যুতি, অনাহার নীতি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমাগত সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল যে ক্রমবর্ধমান হারে একঘরে হয়ে পড়ছে, এই জরিপের ফল তারই প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আদালত, জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সতর্কতা দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে দেশটির ভাবমূর্তি ধসে পড়েছে।
ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে রাশিয়া ও চীনের নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিট পারসেপশন স্কোর যেখানে ছিল ‘প্লাস ২২’ শতাংশ, ২০২৬ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ‘মাইনাস ১৬’ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির অবস্থানের ৩৮ পয়েন্ট অবনতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভই এই পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নেটো জোটের মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন, আগ্রাসী শুল্ক নীতি, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিতর্কিত হুমকি, ইউক্রেইনে সহায়তা কমিয়ে দেওয়া এবং ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থনের প্রভাব পড়েছে জনমতে। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষ এখন রাশিয়া ও ইসরায়েলের পরই যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন।
জরিপ সংস্থাটির মতে, এটি বিশ্বের বৃহত্তম বার্ষিক গণতান্ত্রিক জরিপ। এখানে বিশেষজ্ঞদের বদলে সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের মতামত নেওয়া হয়।
নির্বাচন, বাক-স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুলত্ববাদ, আইনের শাসন এবং সরকারি স্বচ্ছতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে মানুষ তাদের নিজ নিজ দেশের গণতন্ত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
গাজায় সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইসরায়েলের প্রতি বৈশ্বিক জনমত তীব্রভাবে বিরোধী হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং প্রায় পুরো জনসংখ্যাকে বাস্তুচ্যুত করার এই অভিযানকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ ও গণহত্যা গবেষকরা ভয়াবহ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলকে অব্যাহত সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকেও চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।
যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ থাকার পরও জাতিসংঘে ইসরায়েলকে রক্ষা করা এবং অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিকে দায়মুক্তি, দ্বিচারিতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী যুদ্ধের সমার্থক হিসেবেই তুলে ধরছে।