Published : 07 Dec 2025, 02:38 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার দাবি করলেও মার্কিন নীতিগুলোকে অবমূল্যায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন এক শীর্ষ আমেরিকান কূটনীতিক।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যানডাউ সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে বিশ্বের শীর্ষ ধনী প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ইলন মাস্কের সামাজিক মাধ্যমটিকে ইইউয়ের ১৪ কোটি ডলার জরিমানা করার সমালোচনা করেছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অন্য মার্কিন কর্মকর্তারা মাস্কের মালিকানধীন এক্স-কে জরিমানা করার সমালোচনা করেছেন। এবার ল্যানডাউ তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। কিন্তু ল্যানডাউ শুধু সমালোচনা করেই ক্ষান্ত থাকেননি, তিনি বৃহত্তর আদর্শগত ও কৌশলগত উদ্বেগের দিকটিও তুলে ধরেছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ল্যানডাউ তার পোস্টে বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ইইউয়ের পার্থক্যগুলো তুলে ধরেছেন যেগুলো নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (নেটো) সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মহাদেশটির অংশীদারিত্বের ধারণাকে ‘অবমূল্যায়ন’ করছে।
ল্যানডাউ লিখেছেন, ইইউয়ের নিয়ন্ত্রক অবস্থান পশ্চিমা নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব ও মূল্যবোধের ক্ষতি করতে পারে।
“এই দেশগুলো যখন তাদের নেটো টুপি পরে, তারা জোর দিয়ে বলতে থাকে যে ট্রান্সআটলান্টিক সহযোগিতা আমাদের পারস্পরিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। কিন্তু এই দেশগুলোই যখন তাদের ইইউ টুপি পরে, তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী অনুসরণ করতে থাকে যা প্রায়ই মার্কিন স্বার্থ ও নিরাপত্তার একদম প্রতিকূল, এই অসঙ্গতি চলতে পারে না।”
অর্থের বিনিময়ে ব্লু টিক বা ব্যাজ দেওয়ার ‘অপরাধে’ মাস্কের সামাজিক মাধ্যম এক্স’কে ১৪ কোটি ডলার (১২ কোটি ইউরো) জরিমানা করার কথা শুক্রবার ঘোষণা করে ইউরোপীয় কমিশন। এই জরিমানা ইইউয়ের ডিজিটাল সার্ভিসেস আইনের অধীনে প্রথম উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের ঘটনা।
ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, এক্স প্ল্যাটফর্মে কোনো ব্যবহারকারী চাইলে অর্থের বিনিময়ে তাদের প্রোফাইলে ব্লু টিক চিহ্ন বা ব্যাজ পেতে পারেন। যার ফলে ওই ব্লু টিকধারী অ্যাকাউন্ট নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ তৈরি হয়। কারণ প্লাটফর্মটি আসলে ‘ঠিকভাবে যাচাই’ করছে না, ওই অ্যাকাউন্টের পেছনে কে বা কারা আছেন।
কমিশন আরও বলেছে, প্ল্যাটফর্মটি বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে স্বচ্ছতা দেখাচ্ছে না এবং গবেষকদের জন্য পাবলিক তথ্যে প্রবেশাধিকারও দিচ্ছে না।
রয়টার্স লিখেছে, ল্যানডাউসহ এর আগে জানানো রুবিও, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কারের আপত্তিগুলোতে আমেরিকার কোম্পানিগুলোর ওপর ইউরোপীয় ডিজিটাল আইনের প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়েছে।
রুবিও ও কার বলেছেন, এই জরিমানার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পক্ষপাত প্রদর্শিত হয়েছে। রুবিও এই ঘটনাকে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারগুলোর ‘আক্রমণ’ এবং আমেরিকান অনলাইনের বিরুদ্ধে ‘সেন্সরশিপের পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভ্যান্স অভিযোগ করে বলেছেন, এক্সকে আসলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, কারণ, তারা ‘সেন্সরশিপে অংশ নিচ্ছে না বা মানুষের কথা বা মতামত দমন করতে রাজি নয়’।
এই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়ে ধনকুবের উদ্যোক্তা মাস্ক শুক্রবার এক্স এ এক পোস্টে ইইউকে ‘বিলুপ্ত’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, “এক্সের পদক্ষেপের কারণে সৃষ্ট ভ্রান্তির কারণে প্রতারণা ও জালিয়াতির মুখে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা, যেমন কারও পরিচয় নকল করা ও খারাপ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর বা মিথ্যা প্রভাবের শিকার হতে পারেন তারা।”
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মার্কিন কোম্পানি হিসেবে এক্সের মর্যাদার কোনো কোনো সম্পর্ক নেই।