Published : 08 Feb 2026, 01:44 PM
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছে চীন। পাকিস্তান সরকারের ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার’ প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।
রোববার এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শুক্রবারের ওই হামলার ঘটনায় তারা ‘গভীরভাবে মর্মাহত’।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, “চীন এ হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং যে কোনো ধরণের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে।”
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইসলামাবাদের তারলাই এলাকার ‘ইমামবাড়া কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা’মসজিদে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এতে ৩৬ জন নিহত ও আরও ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাও আছেন।
এক হামলাকারী মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে গুলিবর্ষণের পর সেখানে মুসুল্লিদের মাঝে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ঘটনাস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বহু মানুষ হতাহত হয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে পড়ে থাকেন আর স্থানটি রক্তে ভেসে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুমার নামাজের পর হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলাকারীকে মসজিদের প্রবেশ পথে থামানো হয়েছিল, সেখান থেকেই হামলা শুরু করে সে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ওই আত্মঘাতী হামলাকারী আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, টেলিগ্রাম অ্যাপে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে সুন্নি জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি হামলাকারীকে আফগানিস্তানের নাগরিক বলে দাবি করেছেন আর সে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছেন।
তিনি জানান, এই হামলার ঘটনায় সহায়তা করা চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীও আছেন। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া (কেপি) প্রদেশে রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নাকভি আরও জানান, রাতে অভিযান চলাকালে কেপি পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।