Published : 04 Jun 2026, 09:24 PM
কালো টাকা বৈধ করার ‘অসাংবিধানিক, দুর্নীতিসহায়ক ও বৈষম্যমূলক সুযোগ’ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার শামিল বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
কোনো ধরনের কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন করার সুযোগ না রেখে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ঘোষণার মাধ্যমে সরকার আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসার পর বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানাল সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আবাসন খাতের ব্যবসায় স্থবিরতা দূর করা, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ‘অজুহাতে’ এ জাতীয় দুর্নীতিসহায়ক সুযোগ দেওয়া হলে তা সরকারের জন্য ‘আত্মঘাতী’ হবে, যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করারই নামান্তর।
এই সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। পাশাপাশি ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানের যে পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে, সেখানে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, “স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিটি সরকার কোনো না কোনো পন্থা অবলম্বন করে ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ বৈধ করার নামে সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ পরিপন্থি এই বিধান অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয় বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে।
“কখনও বিনাপ্রশ্নে আবার কখনও বা নিয়মিত করহারের চেয়ে তুলনামূলক কমহারে দুর্নীতিবাজদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক এই অনৈতিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছিল। তখনও একইভাবে এই বৈষম্যমূলক বিধান বহাল রাখার পেছনে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক লাভ-ক্ষতির খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হত, কিন্তু প্রকৃতার্থে এর ফলে দেশে করফাঁকি এবং সৎ ও বৈধ আয়ের ব্যক্তি করদাতাকে নিরুৎসাহিত করার সংস্কৃতিটি ক্রমান্বয়ে দৃঢ়তর হয়েছে।”
তার ভাষ্য, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে বিপুল জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের এই অনৈতিক ও আত্মঘাতী চর্চা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? এক্ষেত্রে সরকারকে স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী শ্রেণির চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বিবেচনাসহ জনআকাঙ্ক্ষা মূল্যায়নে আন্তরিক হওয়া জরুরি।”
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থ ফেরত আনার আন্তরিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার যদি এই পরিকল্পনা করে থাকে, সেটা হতে পারে। তবে যারা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা যেন এ সুযোগ নিতে না পারেন।
“অধিকন্তু অর্থ পাচারের কারণে ইতোমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, এবং তাদের জন্য কোনো বিবেচনাতেই ‘সাধারণ ক্ষমা’প্রজোয্য নয়, তা সরকারে নিশ্চিত করতে হবে।”
আগামী অর্থবছরে মধ্যে জমির রেজিস্ট্রেশনের বাইরে যে টাকা লেনদেন হয়, তার ওপর থেকে সরকার যেন কর পায়, সেজন্য সাধারণ করহারে সেই অর্থ প্রদর্শন করার সুযোগ দিতে চাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।
সেক্ষেত্রে জমি বা ফ্ল্যাটের ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের আয়কর রিটার্নে ওই অর্থ প্রদর্শিত হতে হবে কিন্তু সেই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারবে না- এমন বিধান রাখার চিন্তা করছে সংস্থাটি।