Published : 28 Jul 2026, 03:52 PM
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া মামলার অন্য একটি ধারায় তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ এস কে এম তোফায়েল হাসান এক আসামির উপস্থিতি এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) নুরতাজ আলম বাহার।
দণ্ড পাওয়ারা হলেন- হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশালের বিমানবন্দর থানার সারসী গ্রামের নূর মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি। তবে সাগর পলাতক রয়েছেন।
মামলা থেকে জানা গেছে, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও লাইলী বেগম দম্পতির বড় ছেলে। সে ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পিপি নুরতাজ আলম বলেন, কোভিড মহামারির সময় স্কুল বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে সোহানকে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক কিনে দেন। সেই ইজিবাইক চালিয়ে তিনি ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করতেন।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহান। দুপুরে খাবারের সময় বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বাড়ি ফিরবে বলে জানায়। তবে পরে আবার ফোন করলে আর ধরেনি।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে জানতে পারেন, খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে সোহানের লাশ পড়ে আছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার গলাকাটা লাশ দেখতে পান। তবে তার ব্যবহৃত ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি।
ঘটনার দিনই সোহানের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন বলে জানান পিপি নুরতাজ।
তদন্তে উঠে আসে, ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয় বলে জানান তিনি।
তদন্ত শেষে সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাদের আরও চার বছর সশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।