০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

এনভিডিয়া’কে টপকে ফের শীর্ষ কোম্পানি অ্যাপল

এআই খাতের পেছনে নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলার বড় মূলধনী খরচ না করে, বরং প্রয়োজন অনুসারে সেবা ভাড়া করার কৌশল নিয়েছে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি।

এনভিডিয়া’কে টপকে ফের শীর্ষ কোম্পানি অ্যাপল
অ্যাপলের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। ছবি:রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 03:34 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য এআই চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়াকে পেছনে ফেলে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির খেতাব ফিরে পেয়েছে অ্যাপল।

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি প্রতিবেদনে লিখেছে, এআই অবকাঠামোয় বড় খরচ এড়িয়ে সেবা ভাড়া করার কৌশল ও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক উত্থানের ওপর ভর করে এনভিডিয়াকে টপকে শীর্ষে উঠে এল আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি।

সোমবার শেয়ারবাজারে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ৫ শতাংশ কমে যায়। এতে চিপ নির্মাতা কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে।

এআই খাতের বড় অবকাঠামোগত খরচ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তার কারণে সার্বিকভাবেই এআই চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দরপতন ঘটেছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার অ্যাপলের প্রতীক্ষিত আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের আগেই সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। ফলে অ্যাপলের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।

এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে মাইক্রোসফটকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির স্থান দখল করেছিল এনভিডিয়া। ওই বছরের অক্টোবরে ক্ষণিকের জন্য কোম্পানিটির বাজারমূল্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলারও স্পর্শ করেছিল।

এ বছর এখন পর্যন্ত এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম বেড়েছে কেবল ৪ শতাংশ, যেখানে অ্যাপলের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ।

এআই খাতের পেছনে নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলার বড় মূলধনী খরচ না করে, বরং প্রয়োজন অনুসারে সেবা ভাড়া করার কৌশল নিয়েছে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি।

অ্যাপলের এই হিসাব কষে এগোনোর সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচকভাবে নেওয়ায় সার্বিক বাজারে অন্য সবাইকে ছাপিয়ে গেছে তারা।

এদিকে, টানা তিন বছর ধরে এআই প্রযুক্তির কল্যাণে বড় ব্যবসার মুখ দেখলেও এনভিডিয়ার ‘গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট’ বা জিপিইউ মতো এআই চিপের ওপর থেকে নজর কিছুটা সরিয়ে নিচ্ছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

এর বদলে তারা এখন নজর দিচ্ছেন ডেটা সেন্টারের অন্যান্য অবকাঠামো ও মেমোরি চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর ওপর, যারা এআই খাতের এ বিপ্লবে বড় সুবিধা পাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম ‘মাইক্রন টেকনোলজি’, ‘এসকে হাইনিক্স’ ও ‘স্যানডিস্ক’।

বৃহস্পতিবার অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে যাচ্ছে অ্যাপল, যেখানে বিশ্বজুড়ে এআই চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে মেমোরি চিপের ঘাটতি অ্যাপলের আর্থিক খাতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে তা প্রথমবারের মতো প্রকাশ পাবে।

এ চিপ সংকটের কারণে গেল জুনেই ম্যাক ও আইপ্যাডের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছিল কোম্পানিটি।