Published : 16 Feb 2026, 12:23 AM
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার এবং স্ত্রী মিশেল ওবামাকে নিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা একটি বর্ণবিদ্বেষী ভিডিও নিয়ে মুখ খুলেছেন।
লিবারেল পডকাস্টার ব্রায়ান টাইলার কোহেনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওবামা পরোক্ষোভাবে ট্রাম্পের পোস্ট করা ওই ভিডিও নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
তিনি মন্তব্য করেন, একসময় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে লজ্জা এবং শালীনতা কাজ করত, তা এখন হারিয়ে গেছে।
আপত্তিকর ওই ভিডিওতে ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বানরের রূপে দেখানো হয়েছিল, যা ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দু’দলের নেতাদের কাছ থেকেই সমালোচিত হয়।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ সম্বলিত ওই ৬২ সেকেন্ডের ভিডিওর একেবারে শেষাংশে ক্লিপটি ছিল, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে শোনা গেছে ‘দ্য লায়ন স্লিপস টুনাইট’ গানটি।
ভিডিওটি পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা পর ডনাল্ড ট্রাম্প তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেন।
পরে মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট বলেন, তার এক কর্মী পোস্ট করার আগে তিনি কেবল ভিডিওর শুরুর অংশই দেখেছেন এবং এর ভেতরে যে ওবামা দম্পতিকে ‘এভাবে দেখানো হবে’ তা জানতেন না।
হোয়াইট হাউজ শুরুতে ভিডিওটির পক্ষে সাফাই গেয়েছিল এবং ভিডিও নিয়ে সমালোচনাকে 'ভুয়া ক্ষোভ' বলে অভিহিত করেছিল।
এবার ওই ভিডিও নিয়েই সমালোচনা করলেন বারাক ওবামা। তিনি বলেন, “বেশিরভাগ মানুষই এখনও ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ এবং দয়াশীলতায় বিশ্বাস করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং টেলিভিশনে বর্তমানে কেবল একটি ‘ভাঁড়ামি’ (ক্লাউন শো) চলছে।
“যারা এক সময় মনে করতেন যে পদের প্রতি সম্মান, শিষ্টাচার এবং সৌজন্যবোধ থাকা প্রয়োজন, তাদের মধ্যে এখন আর কোনও লজ্জা কাজ করে বলে মনে হয় না, তাই না? সেই বোধটা হারিয়ে গেছে।”
ওবামা আরও বলেন, “রাজনৈতিক বক্তৃতা এমন এক নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে নেমে গেছে, যা আগে দেখা যায়নি।”
সাক্ষাৎকারে ওবামা কেবল বর্ণবাদই নয়, বরং মিনেসোটা রাজ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানেরও সমালোচনা করেন।
পডকাস্টে কোহেন উল্লেখ করেন যে, হোয়াইট হাউজ অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর 'ভুক্তভোগীদের' 'দেশীয় সন্ত্রাসী' বলে দাবি করেছে। তাছাড়া, কয়েক দিন আগে ট্রাম্প আপনার মুখ একটি বানরের শরীরে বসিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছেন।
জবাবে ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ এ ধরনের আচরণকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক মনে করে। এটি সত্য যে, এসব বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ করে। আবার এটাও সত্য যে, এগুলো মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।”