Published : 14 Jul 2026, 01:14 PM
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতিরা। তাদের অভিযোগ, সানা বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করেছে রিয়াদ।
এর ফলে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর মুখপাত্র এক্স এ জানিয়েছেন, সৌদি আরব ‘দক্ষিণাঞ্চলের দিকে সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরোধ করেছে।
হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, তারা সৌদি আরবের আবাহ শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যস্থল করেছে। আবাহ সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের রাজধানী আর এটি ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল।
২০২২ সালে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। এরপর মার্চ থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দু‘পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তার থেকে এই প্রথম সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আঘাত হানার দাবি করল হুতিরা।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হ্রাস পেলেও সোমবারের সহিংসতা দেশটির দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অন্যান্য ছোট উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় সৌদি আরব আয়তনে অনেক বড় হওয়ায় ইরান যুদ্ধের সময় দেশটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল আর হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে আগে থেকেই লোহিত সাগরে অবস্থিত পশ্চিম উপকূলীয় পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পেরেছিল।
কিন্তু হুতিদের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো সংঘাত শুরু হলে এই সুবিধা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এর আগে যুদ্ধ চলার সময় হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বন্দর ও জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়েছিল।
এসব ঘটনা নিয়ে মন্তব্য চেয়ে রয়টার্সের জানানো অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর।
সোমবার সকালে হুতিরা সানার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমান হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করে এর প্রতিশোধের প্রত্যয় জানায়। হুতিরা সোমবারের এ হামলাকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে আর এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করে।
সানা বিমানবন্দরের ‘অবরোধ’ না তোলা পর্যন্ত তারা এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমায় চলাচল না করার জন্য সতর্ক করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সানা বিমানবন্দরে হামলায় দায় ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার স্বীকার করেছে। এই সরকার সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট আর তাদের অনেক সদস্যই রিয়াদে বসবাস করেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিরক্ষ মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানি উড়োজাহাজকে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধা দিতেই সেখানকার রানওয়েকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে। সানায় ইরানি উড়োজাহাজের অবতরণ ইয়েমেনের সর্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হতো।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, শত্রুভাবাপন্ন যে কোনো আকাশযান ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলে সরকারি বাহিনী ‘সম্ভাব্য সব উপায়ে’ প্রতিক্রিয়া দেখাবে আর এসবের জন্য ইরানকে দায়ী করবে।
হুতি সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র পরে জানিয়েছেন, ইরানি উড়োজাহাজটি হুতিদের নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সানা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর শহর হোদেইদাহে ইরানি উড়োজাহাজটিকে নামতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হয়নি।
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে হুতি নেতারা ওই ইরানি উড়োজাহাজটিতে করে দেশে ফেরেন।