Published : 22 Mar 2026, 06:31 PM
ইরানে যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার পেছনে কোনও ইরানি ড্রোন নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দায়ী ছিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করে দেখা গবেষকদের এক বিশ্লেষণে এ দাবি করা হয়েছে।
৯ মার্চে ভোররাতের ওই বিস্ফোরণে শিশুসহ ৩২ জন আহত হওয়া ছাড়াও বাড়িঘর ভেঙে পড়েছিল। এই হামলার জন্য বাহরাইন এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ইরানের ড্রোনকে দায়ী করেছিল। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য ছিল, ইরানের ড্রোন বাহরাইনের আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন সরকার শনিবার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, সিতরা দ্বীপে মাহাজ্জা এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারির ছোড়া ইন্টাসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ঘটেছিল।
তবে এক বিবৃতিতে বাহরাইন সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে একটি ইরানি ড্রোনকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করেছে। যার ফলে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, “মানুষ আহত হওয়া বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর বা ইরানি ড্রোনের সরাসরি মাটির ওপর আছড়ে পড়ার কারণে ঘটেনি বরং আকাশে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ার কারণে ঘটেছে।”
তবে মাহাজ্জায় বিস্ফোরণের ঘটনা ইরানি ড্রোনের কারণে ঘটেছে এমন কোনও প্রমাণ বাহরাইন কিংবা ওয়াশিংটন কেউই দিতে পারেনি।
আর অনেকটাই সস্তা ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার এই যুদ্ধের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
বাহরাইন ড্রোন ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাটি এই কৌশলের ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতার দিকটিই সামনে আনে। শক্তিশালী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ, সেটি ড্রোনকে বাধা দিক বা না দিক, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষ আহতের কারণ হয়েছিল।
অন্যদিকে, বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই রাতে কাছের তেল শোধনাগারে হামলা প্রতিরোধ করতে পারেনি, যার ফলে শোধনাগারটি কয়েক ঘণ্টা পর অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষাদপ্তর পেন্টাগন রয়টার্সকে সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
ওদিকে, হোয়াইট হাউজে পাঠানো প্রশ্নের জবাবে এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা নিক্ষেপের সক্ষমতা ‘চূর্ণ’ করে দিচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনও বেসামরিক নাগরিকদের হামলার নিশানা করে না। তবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া নিয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলার প্রথম দিনে, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হামলার দায় অস্বীকার করলেও পরে প্রমাণিত হয়, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।