Published : 22 Jul 2026, 12:23 PM
মদ্যপান ককরে গাড়ি চালানোর অভিযোগ স্বীকার করার পর সিডনি থান্ডারের অধিনায়ক হিসেবে ডেভিড ওয়ার্নারের ভবিষ্যৎ এখন সুতোয় ঝুলছে।
ওয়েভারলি স্থানীয় আদালতে বুধবার ওয়ার্নারের হাজির হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি, কিন্তু তার আইনজীবী ববি হিল বলেন যে, ইস্টার সানডের দিনে মাঝারি মাত্রার মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগটি স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই ক্রিকেটার।
হিল বলেন, “উভয় পক্ষই ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করছে।”
গত ৫ই এপ্রিল সিডনিতে রাস্তার পাশে একটি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ওয়ার্নারের অ্যালকোহল পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।
মারুব্রা পুলিশ স্টেশনে দ্বিতীয় পরীক্ষায় ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ০.১০৪ – যা আইনসম্মত রক্ত অ্যালকোহল সীমার দ্বিগুণেরও বেশি।
গত মে মাসে যখন বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করা হয়, তখন দোষ স্বীকার করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ওয়ার্নারের আইনজীবী।
“তিনি (ওয়ার্নার) জানেন যে, তিনি যা করেছেন তা ভুল ছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, উবার না নিয়ে নিজের গাড়িতে ওঠাটা একটি বেপরোয়া, একটি বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।”
হিল জানান, ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওয়ার্নার এক বন্ধুর অ্যাপার্টমেন্টে তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন।
“প্রভুর পুনরুত্থানের দিনে (ইস্টার সানডে) এক গ্লাস ওয়াইন পান করা কোনো অপরাধ নয়। বস্তুত, কেউ কেউ এটিকে সম্পূর্ণ উপযুক্ত বলেও মনে করতে পারেন। তার অপরাধ হলো, যেমনটা আমি বলেছি, প্ল্যান বি-এর পরিবর্তে একটি বোকামিপূর্ণ পথ বেছে নেওয়া।”
হিল জানান, পুলিশ থামানোর ১১ মিনিট আগেই ওয়ার্নার শেষবার মদ পান করেছিলেন।
ওয়ার্নার পরে অনুতপ্ত হয়েছেন এবং অনুকম্পা প্রার্থনা করবেন। কিন্তু তিনি আশা করছেন যে, অন্য যেকোনো নাগরিকের মতোই তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, বলেছেন তার আইনজীবী। ওয়ার্নারের সাজার তারিখ আগামী ১৮ই অগাস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
তার গ্রেপ্তারের পর ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান নির্বাহী লি জার্মন বলেছিলেন, “অভিযোগগুলো অবশ্যই উদ্বেগজনক এবং আমরা এগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলসে আমরা নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের জোরালো সমর্থক, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর নয়।”
তার দোষ স্বীকার থান্ডার দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে, এবং এই স্বীকারোক্তির পর মন্তব্যের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল।
সিডনি সিক্সার্স এবং নিউ সাউথ ওয়েল ব্লুজের সঙ্গে সিডনি থান্ডারও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো প্রতিরোধের জন্য রাজ্য সরকারের প্রচারণার অংশ। সেই দলের অধিনায়ক মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়ার পর তাকে নেতৃত্বে বহাল রাখার সম্ভাবনা সামান্যই।
২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার কারণে ওয়ার্নারকে আজীবনের জন্য নেতৃত্বের পদ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় এবং এর কিছুদিন পরেই তাকে থান্ডারের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এবারের বিতর্কের সময়টায় পাকিস্তান সুপার লিগে করাচি কিংসের অধিনায়কত্ব করেছিলেন ওয়ার্নার। ইস্টারের ছুটিতে দেশে পর ওই ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন।