Published : 17 Jul 2025, 09:49 PM
যুক্তরাজ্যজুড়ে সব নির্বাচনে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করতে চলেছে সরকার। আগামী সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকেই তা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
ব্রিটিশ নির্বাচকমন্ডলীতে ১৯৬৯ সালের পর থেকেই এটিই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ওই বছর ভোটারের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করা হয়েছিল। এবার তা আরও কমছে।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির গতবছরের নির্বাচনী ইস্তেহারে স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোটারের বয়স ১৬ বছর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী ভোটাররা ভোটে অংশ নিতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনসহ ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের নির্বাচনে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ১৮।
এবার লেবার সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভোটারের বয়স ১৬ করলে স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাদবাকী অংশ এক কাতারে আসবে। আর কেবল তাই নয়, গোটা যুক্তরাজ্যজুড়ে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী ভোটাররা স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিট বলেছে, তরুণ জনগোষ্ঠীকে গণতন্ত্রে সামিল করাটা গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ভোটের কারণে লেবার পার্টি সুবিধা পাবে এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ডাউনিং স্ট্রিট।
ভোটারের বয়স কমালে যুক্তরাজ্যে আগামী সাধারণ নির্বাচনে যোগ হবে আরও ১৫ লাখ সম্ভাব্য ভোটার। যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী ভোটারদের এই তরুণ গ্রুপটির কনজারভেটিভদের চেয়ে লেবার পার্টিকেই ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ফলে দলটির লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই লেবার পার্টির আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতেই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ভোটারের বয়স কমানোর পথে হাঁটছেন বলে সমালোচনায় সরব হয়েছে কনজারভেটিভ (টোরি) ও রিফর্ম ইউকে পার্টির নেতারা।
তবে ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিল সেটিই পূরণ করছে।
ওদিকে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ১৬ এবং ১৭ বছর বয়সীরা কাজ করা এবং কর দেওয়ার মতো যথেষ্ট বড়। সুতরাং, দেশ পরিচালনায় তারা মত দেওয়ার অধিকার পেতেই পারে।
যুক্তরাজ্যে আগামী সাধারণ নির্বাচন হবে ২০২৯ সালে। তবে তার আগেও নির্বাচন ডাকা হতে পারে। সরকার এই নির্বাচনেই ভোটারের বয়স কমিয়ে ১৬ করার পরিকল্পনা নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
নতুন একটি নির্বাচনি বিলের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হবে। তবে ভোটারের বয়স কমানোর বিষয়টি বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির ছায়ামন্ত্রী পল হোমেস।
তিনি বলেন, “১৬ বছর বয়সীরা যেখানে লটারির টিকেট কিনতে পারে না, বিয়ে করতে পারে না, অ্যালকোহলিক পানীয় পান করতে পারে না,যুদ্ধে যেতে পারে না এমনকি ভোটেও দাঁড়াতে পারে না- তাহলে তাদের ভোট দিতে দেওয়ার মানে কি? সরকার কেন ভাবছে যে তারা ভোট দিতে পারে?”
বিশ্বে বর্তমানে খুব অল্প কিছু দেশেই ১৮ বছরের কম বয়সীরা নির্বাচনে ভোট দিতে পারে। এর মধ্যে আছে অস্ট্রিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইকুয়েডর ও কিউবা।