Published : 08 Dec 2023, 07:14 PM
উত্তর গাজা এবং দক্ষিণের খান ইউনিস নগরী ঘিরে লড়াই বাড়তে থাকার মধ্যে স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে ইসরায়েলের গণহারে ফিলিস্তিনিদের আটকের একটি ভিডিও।
বিবিসি এই ভিডিও ফুটেজ যাচাই করেছে। এতে দেখা গেছে, আটক হওয়া ফিলিস্তিনিদের কাপড় খুলে নেওয়া হয়েছে, তাদেরকে হাটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনারা তাদেরকে পাহারা দিচ্ছে।
এই ফিলিস্তিনিদেরকে গাজার উত্তরের বেইত লাহিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকজনকে এরপর মুক্তি দেওয়া হয় বলে খবর পেয়েছে বিবিসি।
ভিডিওটি সম্পর্কে ইসরায়েল সরকারের এক মুখপাত্র বিবিসি-কে বলেছেন, আটক হওয়া সবার বয়স সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার মতো। তাদেরকে এমন জায়গায় পাওয়া গেছে যেখানকার অধিবাসীরা কয়েকসপ্তাহ আগেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক ডজন মানুষকে ফুটপাথে সারিবদ্ধ করে রেখে তাদের জুতো খুলে ফেলতে বলা হয়েছে। রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে জুতো। ইসরায়েলি সেনারা এবং সাঁজোয়া যান তাদেরকে পাহারা দিয়ে রেখেছে।
অন্যান্য ছবিতে দেখা গেছে, তাদেরকে সামরিক ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, আটককৃতরা আত্মসমর্পণ করা হামাস যোদ্ধা।
আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, আটককৃতদের চোখ বেঁধে রাখা হয়েছে এবং হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই ছবিটি বিবিসি যাচাই করতে পারেনি।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এ ছবির ব্যাপারে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি। তবে আইডিএফ এর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি বৃহস্পতিবার বলেন, “আইডিএফ যোদ্ধারা এবং শিন বেট (ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা) এর কর্মকর্তারা শত শত সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে আটক ও জেরা করেছে।
“তাদের অনেকেই গত ২৪ ঘন্টায় আমাদের বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তাদেরকে জেরা করা থেকে বেরিয়ে আসা গোয়েন্দা তথ্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কাজে লাগানো হচ্ছে।”
শুক্রবার ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র ইলন লেভি বিবিসি-কে বলেন, উত্তর গাজার জাবালিয়া এবং শেজাইয়ায় এদেরকে আটক করা হয়েছে। গাজার এই দুই এলাকাকে হামাসের ঘাঁটি এবং অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র বলে বর্ণনা করেন তিনি।
লেভি বলেন, “কে আসলেই হামাস সন্ত্রাসী আর কে না তা জানতে তাদেরকে জেরা করা হবে।”