Published : 01 Feb 2026, 02:24 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে একটি চুক্তি করতে পারবে বলেই তার বিশ্বাস।
যে দেশ কিউবায় তেল সরবরাহ করবে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, এমন হুমকি দেওয়ার কয়দিন পর শনিবার তিনি এ মন্তব্য করলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে কিউবার প্রতি আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
“মানবিক সঙ্কট হওয়ার দরকার নেই।
“আমার মনে হয়, তারা সম্ভবত আমাদের কাছে আসবে ও চুক্তি করতে চাইবে। তারা এমন পরিস্থিতিতে আছে যেটা কিউবার জন্য খুবই খারাপ। তাদের কাছে অর্থ নেই। তেল নেই। তারা টিকে ছিল ভেনেজুয়েলার অর্থ আর তেলের ওপর, সেটা আর তাদের কাছে যাচ্ছে না,” বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২০২৫ সালেও ভেনেজুয়েলা ছিল কিউবার সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী। কারাকাসই ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্রটির দৈনন্দিন প্রয়োজনের এক-তৃতীয়াংশ মেটাতো। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের আগেই যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেলের চালানে অবরোধ আরোপ করেছিল, যার দরুন কিউবায় তেল সরবরাহ অনেকখানি কমে যায়।
ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর এখন মেক্সিকোও কিউবায় তেল রপ্তানিতে লাগাম দেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানুয়ারিতেই এক বিশেষ প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছিল। ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেলের চালান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মেক্সিকোই হয়ে উঠেছিল কমিউনিস্ট-শাসিত দেশটির প্রধান তেল সরবরাহকারী।
দীর্ঘদিনের মার্কিন অবরোধে বিপর্যস্ত কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা করোনাভাইরাস মহামারীর পর থেকে ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে জ্বালানি সঙ্কট অন্যদিকে পুরনো ও ভঙ্গুর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা দেশটির নাগরিকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
গত তিন সপ্তাহে দেশটির মুদ্রা পেসো মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১০% মূল্য হারিয়েছে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও অনেকখানি বেড়ে গেছে।
'গলা চেপে ধরার' হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, দমবন্ধ অবস্থায় কিউবানরা