Published : 23 Feb 2026, 05:30 PM
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফের কিম জং উনকেই বেছে নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
পিয়ংইয়ংয়ে দলটির কংগ্রেসে রোববার এ সিদ্ধান্ত আসে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
কিমই যে ফের দলটির শীর্ষ নেতা হবেন তা আগেই অনুমান করা যাচ্ছিল। ১৯৪০-র দশকের শেষদিক থেকে এ পর্যন্ত তাদের পরিবারই উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছে।
দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ বলেছে, কিমের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়ার ‘যুদ্ধ প্রতিরোধক্ষমতার ভয়াবহ অগ্রগতি হয়েছে’, যার কেন্দ্রে রয়েছে এর ‘পারমাণবিক অস্ত্রবহর’।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়িয়ে গেছে, প্রতিনিয়তই নিষিদ্ধ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে।
তবে কঠোর গোপনীয়তার কারণে তাদের সামরিক সক্ষমতা আদৌ কতটা বেড়েছে তার মূল্যায়ন করা বেশ কঠিন, বলছে বিবিসি।
২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার হাল ধরা কিম পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন, যার ফলে পিয়ংইয়ং পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার নবম কংগ্রেস গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এ কংগ্রেসেই কিম উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচির পরবর্তী পর্বের ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কংগ্রেস শুরু হওয়ার আগেই দেশটি একাধিক পারমাণবিক শক্তিধর রকেট লঞ্চার প্রকাশ্যে এনেছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দল এখন সাধারণত ৫ বছর পরপর কংগ্রেস করে। এবারের কংগ্রেসে প্রায় ৫ হাজার পার্টি সদস্য অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে কেসিএনএ।
দলটির এ কংগ্রেসই দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। এখানে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা পররাষ্ট্র নীতি, পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু করে দেশের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ও সিদ্ধান্ত নেন।
কিম আগেও দলের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। তবে দলের বিভিন্ন পদে নিয়মিতই রদবদলের খবর পাওয়া যায়।
গত সপ্তাহে কংগ্রেসে দেওয়া উদ্বোধনী ভাষণে কিম দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন মানে উন্নতি আনার অঙ্গীকার করেছেন। এ কাজকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি ঐতিহাসিক দায়িত্ব’ আখ্যা দিয়েছেন।
এবারের কংগ্রেসে তিমের মেয়ে জু আয়ে উপস্থিত হয় কিনা সেদিকে অনেকেরই চোখ রয়েছে।
এ মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার গুপ্তচর সংস্থা বলেছিল, কিম তার মেয়ে জু আয়েকেই উত্তরসূরী হিসেবে বেছে নিতে যাচ্ছেন।
জু-র বয়স ১৩ বছর বলে ধারণা করা হয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আয়োজনে গুরুত্ব তো দেওয়া হচ্ছেই, পাশাপাশি বাবার সঙ্গেও তাকে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাস্থলে দেখা যাচ্ছে। জু এমনকী বেইজিংয়ে কুচকাওয়াজেও কিমের সঙ্গী হয়েছিলেন।
ওই কুচকাওয়াজেই প্রথমবার চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নেতারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে বিকল্প সামরিক শক্তির উত্থানের শক্ত বার্তা দেন।
ফের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় কিমকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শি কিমের সঙ্গে ‘চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় লিখতে’ কাজ করবেন, বলেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বেইজিং-ই পিয়ংইয়ংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, তারা উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং সহায়তা পাওয়ার প্রধান উৎসও।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কোর সঙ্গেও পিয়ংইয়ংয়ের ব্যাপক বন্ধুত্ব দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেইনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ মধ্যে কুর্স্কে মস্কোর পক্ষে লড়তে উত্তর কোরিয়া সেনাও পাঠিয়েছে।