Published : 17 Sep 2025, 10:31 PM
ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও চীনসহ ২৩টি দেশকে মাদকের ট্রানজিট বা অবৈধ মাদক উৎপাদনকারী প্রধান প্রধান দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে আছে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বেলিজ, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া, কোস্টা রিকা, ডমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস, জ্যামাইকা, লাওস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পানামা, পেরু ও ভেনেজুয়েলা।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ডিটারমিনেশন অন মেজর ড্রাগ ট্রানজিট অর মেজর ইলিসিট ড্রাগ প্রডিউসিং কান্ট্রিজ ফর ২০২৬’-এ দেশগুলোর নাম দেয়।
তালিকায় উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে, আছে বেশ কয়েকটি ক্যারিবীয় দেশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন, আফগানিস্তান ও লাওসের পাশে ভারত ও পাকিস্তানের নাম বেশ চমক সৃষ্টি করেছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ব্যাখ্যায় বলেছে, তালিকায় কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সঙ্গে সেই দেশের সরকারের মাদকবিরোধী প্রচেষ্টা বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার মাত্রার সম্পর্ক নেই।
মাদক বা এগুলো বানাতে যেসব রাসায়নিক লাগে তা পরিবহন ও উৎপাদনের সুযোগ করে দেওয়া ‘ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক নানামুখী উপাদানের সংমিশ্রনে’ এ তালিকা করা হয়েছে, বলেছে তারা।
এর মধ্যে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা গত ১২ মাস ধরে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী নিয়মকানুন কার্যকরে ‘ব্যর্থ হয়েছে’ বলে ডনাল্ড ট্রাম্প বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমনটাই বলেছে বলে জানিয়েছে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্যান্ডার্ড।
নিটাজিন ও মেথামফেটামিনসহ সিনথেটিক মাদকের প্রবাহ রুখতে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শাস্তি দিতে ট্রাম্প চীনের নেতাদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।
তালিকায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, একাধিক দেশে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলো ফেন্টানিল ও অন্যান্য অবৈধ মাদক পাচার করে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করেছে। একে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকানদের মৃত্যুর প্রধান কারণও বলছে তারা।
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে তারা বলেছে, তালেবান মেথামফেটামিনের বিস্তৃত উৎপাদনসহ অবৈধ মাদকের উৎপাদন ও মজুত নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির মাদকের চালান অব্যাহত রয়েছে। এই মাদক কারবারের আয় বিভিন্ন দেশে সক্রিয় অপরাধী চক্র ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কাছে যাচ্ছে। তালেবানের অনেক সদস্যও এই ব্যবসা থেকে লাভবান হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোকেন পাচার চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও দাবি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তারা মাদুরো ও তার সহযোগীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টার পাশাপাশি ত্রেন দে আরাগুয়ার মতো গ্যাংগুলোকে নিশানা বানানো অব্যাহত থাকবে বলেও জানায়।