Published : 10 Jul 2026, 08:37 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেইনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরুর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করছেন।
উল্টো ইউক্রেইনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে পুতিন যুদ্ধের তীব্রতা আরও
বাড়াতে সংকল্পবদ্ধ হচ্ছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ তিন সূত্র।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনটি সূত্রের মধ্যে দুজন জানান, যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করলেও পুতিন তা আরও বাড়াতে পারেন। আগামী কয়েক মাসে যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে।
এ খবর এমন সময় সামনে এল, যখন কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, “পুতিন যুদ্ধের অবসান চান এবং এ বিষয়ে একটি সমাধান মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও কাছাকাছি।”
গত সপ্তাহে ট্রাম্প আলাদাভাবে পুতিন ও ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে বুধবার নেটো সম্মেলনে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে জেলেনস্কি জানান, তারা শান্তিকে আরও কাছে নিয়ে আসার বিভিন্ন ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউজ কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
পুতিনের অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একজন জানান, পূর্ব ইউক্রেইনের ডনবাস অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ দখল করাই এখন রুশ প্রেসিডেন্টের প্রধান লক্ষ্য। এবছর ওই অঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছে।
একই সূত্রের দাবি, সম্প্রতি কয়েকজন উপদেষ্টা বর্তমান যুদ্ধের সম্মুখসারির ভিত্তিতে একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিলে পুতিন তাদের তিরস্কার করেন। আরেকটি সূত্র জানায়, পুতিনের বিশ্বাস খুব শিগগিরই রাশিয়া পুরো ডনবাস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে।
গত জুনে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সরাসরি বৈঠক ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু পুতিন প্রকাশ্যেই তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রয়টার্সকে বলেন, রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে।
অন্যদিকে, জেলেনস্কির কার্যালয়ের কাছে মন্তব্য চাইলে এক জ্যেষ্ঠ ইউক্রেইনীয় কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেইনের গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পুতিন শান্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন না, বরং ইউক্রেইনে নতুন সামরিক অভিযান কিংবা ইউরোপের অন্য কোনও দেশও সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি চলছে।
পশ্চিমা কিছু সামরিক বিশ্লেষকের মতে, পুরো ডনবাস দখল করতে হলে রাশিয়াকে যুদ্ধের জন্য যোগ্য পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হওয়ায় যুদ্ধের শুরুর দিক থেকেই পুতিন এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলেছেন।
ওদিকে রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও যুদ্ধ আরও বাড়ানো নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চলে নেটো জোটের ঘাঁটির মতো ইউরোপীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন নেটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে ফেলতে পারে।