Published : 14 Feb 2026, 11:48 PM
ইরানের প্রবাসী বিরোধীদলীয় নেতা রেজা পাহলভি বলেছেন, তার দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ জীবন বাঁচাতে পারে আর তাই পারমাণবিক চুক্তির উদ্দেশে ইরানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বেশি সময় নষ্ট না করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহের ছেলে রেজা শনিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে আছে আর এ সময় হামলা চালালে তারা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে অথবা তাদের পতন ত্বরান্বিত হবে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এ সাক্ষাৎকার দেন। এই সম্মেলনে ইরানি কর্মকর্তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী রেজা বলেন, “এটি সময়ের ব্যাপার। আমরা আশা করছি যে এই আক্রমণ প্রক্রিয়াটিকে তরান্বিত করবে এবং জনগণ অবশেষে রাস্তায় ফিরে আসতে পারবে আর এটি শাসনের চূড়ান্ত পতনের পথে নিয়ে যাবে।”
১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবে তার বাবার পতন হওয়ার আগে থেকে রেজা ইরানের বাইরে বসবাস করে আসছেন।
তিনি বলেন, “জনগণ আশা করছে, এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কোনো লাভ নেই, কোনো অর্থ নেই, (ইরানের সঙ্গে) আলোচনা করে আমরা কোথাও পৌঁছতে পারবো না। এর ফলে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সময় হবে আর জনগণের পাশে থাকার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা করবেন। হস্তক্ষেপ জীবন বাঁচানোর একটি পথ।”
দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ মোকাবেলায় ইরান সরকার ব্যাপক সহিংস দমনপীড়নে চালায়। এতে কয়েক হাজার মানুষ মারা যায়। বিক্ষোভ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর জানুয়ারিতে পেন্টাগন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পাঠিয়েছিল।
তেহরান কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে না পৌঁছালে তাদের ওপর হামলার হুঁশিয়ারি আগেই দিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প। তবে বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ওমানে চলা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
কিন্তু শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, “শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই ইরানের জন্য সবচেয়ে ভালো বিষয় হতে পারে।”
শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ক্ষমতাসীনদের সরাতে তার আগ্রহের বিষয়টি এর চেয়ে সুস্পষ্টভাবে আর কখনো প্রকাশ করেননি ট্রাম্প।
“৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলেই গেছে, বলেই গেছে, বলেই গেছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা অনেক প্রাণ হারিয়েছি,” এদিন ট্রাম্প এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ক্ষমতাসীনদের সরালে কারা ইরান পরিচালনা করবে তা বলতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট, কেবল বলেছেন এমন ‘লোকজন আছে’ যারা ক্ষমতা নিতে পারবে।
ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলে ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ অভিযানের সম্ভাবনা রয়েছে আর মার্কিন বাহিনী এখন তার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পরিচয় না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা।
ওমানে দুই পক্ষের আলোচনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তার সমরশক্তি বাড়িয়েই চলছে। সম্প্রতি তারা ওই অঞ্চলে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। জানুয়ারি থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে আছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, তার সঙ্গে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড যোগ দিলে উত্তেজনার পারদ নিঃসন্দেহে নতুন উচ্চতায় উঠবে।
বিমানবাহী রণতরীর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্র জড়ো করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সংখ্যাও কম নয়, সেগুলোতেও সম্প্রতি ব্যাপক নড়াচড়া দেখা গেছে।
আরও পড়ুন:
ইরানে সম্ভাব্য 'কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ অভিযানের' প্রস্তুতি নিচ্ছ