চুনারুঘাটের হত্যাচেষ্টা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন
সাতটি মামলার মধ্যে দুটিতে তিনি জামিন পেয়েছেন, ফলে এখনই মুক্তি মিলছে না।
চুনারুঘাট থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন মঞ্জুর করেছে হাই কোর্ট।
আগের জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো: ইছা ।
শুনানি শেষে আইনজীবী লিটন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "দীর্ঘ ২১ মাস পর তিনি এই মামলায় জামিন পেলেন।"
তবে সাবেক এই সংসদ সদস্য যে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না, সেই তথ্য জানিয়ে আইনজীবী বলেন, "ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কেবল মিরপুর থানার প্রথম হত্যাচেষ্টা মামলার জামিন আপিল বিভাগসহ পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়েছে।
“আজ একটিতে জামিন মঞ্জুর হল এবং বাকি মামলাগুলোর মধ্যে চারটি মামলায় হাই কোর্টে রুল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।"
জামিন আদেশের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইছা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ইতোমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোট পাঠিয়েছি। শিগগিরই এ আদেশের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করা হবে।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, "জামিনের খবর মিডিয়ায় প্রচার হলে অনেক সময় আপিল বিভাগে আদেশের ক্ষেত্রে বা বিচারে একধরনের প্রভাব পড়ে এবং জামিন আটকে যায়। এটি আসামিপক্ষ হিসেবে আমাদের ব্যক্তিগত মতামত।"
গত ৭ এপ্রিল এ মামলায় সুমনের জামিন আবেদন নাকচ করে দেয় হবিগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। এরপর হাই কোর্টে আবেদন করে তিনি জামিন পেলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় চুনারুঘাট উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ গোলচত্বরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সুমনসহ ৯৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাত দেড়টায় রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক এমপি সুমনকে।
প্রথমে তাকে মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত বছরের ২১ মে রাজধানীর খিলগাঁও ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলা, চুনারুঘাটন থানার মামলাসগ মোট সাতটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
