Published : 22 Jul 2026, 04:01 PM
ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তার অভিযোগ, ইরান আলোচনায় আন্তরিক নয়।
একই সময়ে সংঘাতের ব্যাপকতা বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রুবিও ওই কথা বলেন।
রুবিওর এই মন্তব্যের একদিন আগে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের হুমকির মুখে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী তিনটি ট্যাংকার লোহিত সাগর থেকে এশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা বাতিল করে ফিরে যায়।
লোহিত সাগরের প্রবেশমুখের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের হুতিরা সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এই যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ইরান আগে থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুমকি দিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের দৈনিক লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে লোহিত সাগর।
বার্তা সংস্থ রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান সফর করে ইসলামাবাদকে কূটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও ইরানের অবস্থান নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।
“আমাদের এখনকার সমস্যা হল, তারা আলোচনায় আন্তরিক নয়। তারা যদি আন্তরিক হয়, আমরাও আন্তরিক। আর যদি তারা তা না হয়, তাহলে আমরা নিজেদের এবং মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন সেটিই করব,” বলেন রুবিও।
তিনি বলেন, ইরানকে কোনওভাবেই হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া যাবে না। এটি হলে বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য, যাদের অনেকের দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে ভূখণ্ডগত বিরোধ আছে।
রুবিওর মতে, “পশ্চিম এশিয়ায় যদি আমরা এমন কোনও নজির তৈরি করি যে, একটি দেশ সিদ্ধান্ত নেবে তারা আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, টোল আদায় করবে, আর টোল না দিলে জাহাজ উড়িয়ে দেবে, তাহলে এটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হবে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে, এমনকি এই অঞ্চলেও এর পুনরাবৃত্তি হবে।”
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইচ্ছুক থাকার কথা বললেও বাস্তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
বুধবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স বার্ত সংস্থা জানায়, রাজধানীতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এছাড়া ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেখানে অবস্থিত সেই বুশেহর প্রদেশের তিনটি স্থানে বুধবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।