Published : 26 Jan 2026, 09:06 PM
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে কয়েকদিনের ব্যবধানে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দ্বিতীয় আমেরিকান নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত শুরুর জন্য হোয়াইট হাউজের ওপর চাপ বাড়ছে।
কেবল ডেমোক্র্যাটরাই নয়, বেশকিছু রিপাবলিকানও গুলির ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে।
আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মার্কোস্কি বলেন, “গুলির ঘটনার স্বাধীন ও সম্পূর্ণ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ পদক্ষেপ আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।”
“ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের অবাধে কাজ করার এখতিয়ার নেই”, বলেন তিনি। নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসও গুলির ঘটনার পুঙ্ঘানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, “প্রশাসনের কোনও কর্মকর্তা তদন্ত শুরুর আগেই তা বানচাল করার চেষ্টা করলে জাতির মারাত্মক অপকার করবে।” পেনসিলভেইনিয়ার সিনেটর ডেভ ম্যাককরমিকও আইসিই কর্মকর্তাদের গুলির ঘটনার পূর্ণ তদন্ত আহ্বান করেছেন।
তবে তিনি আইসিই এজেন্টদেরকে সমর্থন করে বলেন, “তারা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে।” মিনেসোটার রাজনীতিবিদদের অসহযোগিতার কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ম্যাককরমিক।
ওদিকে, নেব্রাস্কার সিনেটর পিট রিকেটস গুলির ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি’ আখ্যা দেন এবং এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেন। ভারমন্টের রিপাবলিকান গভর্নর ফিল স্কট বলেছেন, “যথেষ্ট হয়েছে। ফেডারেল এজেন্টদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হত্যা মেনে নেওয়া যায় না।”
অন্যান্য রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মতো তিনিও ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানান। স্কট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত এই অভিযান বন্ধ করা, পরিস্থিতির উত্তপ কমানো এবং সত্যিকার অর্থেই অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসীদের দিকে ফেডারেল এজেন্টদের মনোনিবেশ করানো।
কংগ্রেস এবং আদালতেরও জোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে মিনিয়াপোলিসে প্রথেমে এক নারী নিহতের ঘটনা এবং এরপরও ব্যাপক দমনাভিযান ঘিরে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে গত শনিবার অ্যালেক্স প্রেটি নামের আরেকজন নিহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত এই ব্যক্তির বয়স ৩৭। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় গুলি এবং এই প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে মিনিয়োপোলিসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফেডারেল কর্মকর্তা পাঠানোকে কেন্দ্র করে অঙ্গরাজ্যটিতে যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল, নতুন এ ঘটনা তাতে আগুনে ঘি ঢেলেছে।
ঘটনার তদন্তের দাবি জোরাল হতে থাকায় চাপ বাড়ছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর। তিনি বলেছেন, তার প্রশাসন “পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।”
রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একাধিকবার করা একটি প্রশ্নের সরাসরি কোনও জবাব দেননি। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, প্রেটিকে গুলি করে ওই অভিবাসন কর্মকর্তা ঠিক কাজ করেছিলেন কিনা।
এর সরাসরি জবাব না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তার প্রশাসন সব কিছু পর্যালোচনা করে দেখছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনও ধরনের গুলিবর্ষণই পছন্দ করি না। কিন্তু কেউ যদি পুরোপুরি লোড করা শক্তিশালী অস্ত্র ও অতিরিক্ত ম্যাগাজিন নিয়ে কোনও বিক্ষোভে যায়, সেটাও ভালো দেখায় না।”
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে প্রেটিকে গুলির করার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছিল, “তিনি (প্রেটি) বন্দুক উঁচিয়ে ধরেছিলেন।” এই হুমকির কারণেই তাকে গুলি করা হয়।
তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একথা অস্বীকার করে বলেছে, বন্দুক বৈধভাবে নিবন্ধন করা ছিল এবং প্রেটির কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার পর তাকে গুলি করা হয়।