Published : 12 Jan 2026, 09:46 PM
গ্রিনল্যান্ড শক্তি প্রয়োগে দখল করে নেওয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তার দেশ এখন এক ‘চরম সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে।
সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈশ্বিক খনিজ সম্পদ সরবরাহ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ফ্রেডেরিকসেন একথা বলেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে।”
ডেনমার্কের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এক বিতর্কে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, “এটি এমন এক চরম সন্ধিক্ষণ, যেখানে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যতের বিষয়টির বাইরেও ঝুঁকি আছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, “ডেনমার্ক যে কোনও জায়গায় প্রয়োজনে নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষায় প্রস্তুত, আর্কটিক অঞ্চলেও। আমরা আন্তর্জাতিক আইন এবং জনগণের আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকারে বিশ্বাস করি।”
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে জার্মানি ও সুইডেন।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন জানিয়ে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইওহান ভাদেফুল আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আর্কটিকের নিরাপত্তা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং এটি আমাদের নেটো জোটের অভিন্ন স্বার্থের অংশ।”
ওদিকে, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেছেন, সুইডেন, নর্ডিক ও বাল্টিক দেশগুলো এবং ইউরোপের প্রধান কয়েকটি দেশ ডেনমার্কের পাশে আছে।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক প্রধানরা গ্রিনল্যান্ডে একটি সম্ভাব্য ন্যাটো মিশন পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন।
রাশিয়া ও চীনের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষার নামে সেখানে ব্রিটিশ সেনা, যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান মোতায়েন করার বিষয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে লন্ডন।
বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরামর্শ দিয়েছেন যে, মার্কিন নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে নেটোর উচিত আর্কটিক অঞ্চলে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করা।
তিনি বলেন, “আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তি প্রদর্শন করতে হবে এবং উত্তরের এই অঞ্চলে নেটোর একটি অভিযান প্রয়োজন।” তিনি বাল্টিক ও পূর্ব ইউরোপে নেটোর নজরদারি মডেলের আদলে গ্রিনল্যান্ডে ‘আর্কটিক সেন্টরি’ চালুর প্রস্তাব দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের উপনিবেশ থাকা এই দ্বীপটি বর্তমানে আধা- স্বায়ত্তশাসিত। ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটির সাধারণ মানুষ অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এই দখলদারিত্বের ঘোর বিরোধী।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ বাসিন্দা ওয়াশিংটনের অধীনে যাওয়ার বদলে ডেনমার্ক থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়ার পক্ষে।