Published : 11 Oct 2025, 02:05 PM
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন তার সামরিক বাহিনীর বিশাল এক কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেছেন, যেখানে তারা সফররত বিদেশি অতিথিদের সামনে তাদের নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার নানা আয়োজন শেষে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাতে এই কুচকাওয়াজ শুরু হয় বলে শনিবারের প্রতিবেদনে জানিয়েছে কেসিএনএ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ে যাওয়া বিদেশি অতিথিদের মধ্যে চীনের প্রিমিয়ার লি চিয়াং, সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো লামও আছেন।
কুচকাওয়াজে পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়া তাদের সর্বাধুনিক হোয়াসং-২০ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখিয়েছে, যাকে কেসিএনএ বর্ণনা করেছে ‘দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থাপনা’ হিসাবে।
হোয়াসং সিরিজের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যে কোনো জায়গায় হামলার সক্ষমতা দিলেও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্রটি পৌঁছে দেওয়ার মতো গাইডেন্স ব্যবস্থাপনা দেশটির আছে কিনা, বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় এগুলোর ওয়ারহেডের টিকে থাকার সক্ষমতা কেমন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
“চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই এই হোয়াসং-২০ ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা দেখবো বলে মনে হচ্ছে। এটি সম্ভবত একাধিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম করে বানানো হয়েছে। একাধিক ওয়ারহেড যুক্তরাষ্ট্রের এখনকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং কিম যে কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনকে প্রয়োজনীয় মনে করেন, তা অর্জনে সাহায্য করবে,” বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের অঙ্কিত পান্ডা।
কুচকাওয়াজে দেওয়া ভাষণে কিম বিদেশে বিভিন্ন অভিযানে থাকা উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের ‘উষ্ণ উৎসাহ’ যুগিয়ে বলেছেন, কেবল দেশের প্রতিরক্ষাতেই বীরত্ব দেখাচ্ছে না সামরিক বাহিনী, তারা ‘সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দূরদূরান্তেও কাজ করছে’।
“আমাদের সেনাবাহিনীকে এমন এক অদম্য সত্ত্বায় পরিণত হতে হবে যা সব হুমকি নস্যাতে সক্ষম,” বলেছেন উত্তর কোরিয়ার এ শীর্ষ নেতা।
শুক্রবার মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি। সাবেক এ রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইউক্রেইনের রাশিয়ার সামরিক অভিযানে উত্তর কোরীয় সেনাদের আত্মত্যাগই প্রমাণ করছে দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা কতটা।
কিম মেদভেদেভকে বলেছেন, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার রাখা এবং উভয়ের যে সাধারণ লক্ষ্য তা অর্জনে নানান ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ মিথস্ক্রিয়া গড়ে তোলার ব্যাপারে আশাবাদী।