কিইভে বন্দুকধারীর হামলা ও জিম্মি দশা, নিহত অন্তত ৬
যুদ্ধের মধ্যে কিইভে নিয়মিত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলেও, এ ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা শহরটিতে বেশ বিরল।
ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভে এক বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত ও আরও ১৪ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশের গুলিতে বন্দুকধারীও নিহত হয়েছে।
শনিবার শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় হোলোসিইভস্কি জেলায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ইউক্রেইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকো জানান, স্থানীয় এক বাসিন্দা প্রথমে রাস্তায় পথচারীদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করেন। এরপর বন্দুকধারী পাশের একটি সুপারমার্কেটে ঢুকে বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করেন।
পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হামলাকারী নিহত হন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ক্লিমেনকো আরও জানিয়েছেন, সুপারমার্কেটের ভেতর পুলিশের মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে হামলাকারীর সঙ্গে কথা বলে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ওই ব্যক্তি অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন কিন্তু কোনো দাবি পেশ করেননি।
ক্লিমেনকো বলেন, “আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। সেখানে একজন আহত ব্যক্তি থাকায় আমরা ব্যান্ডেজ বা প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া না দিয়ে উল্টো একজন জিম্মিকে হত্যা করেন। এরপরই তাকে নির্মূল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।”
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পুলিশের অভিযানের পরে চার জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
নিহতদের মধ্যে চারজন রাস্তায় গুলিতে প্রাণ হারান। এছাড়া ৩০ বছর বয়সী এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত অপরজনকে জিম্মি করেছিল হামলাকারী।
ইউক্রেইনের প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কো হামলাকারীকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করেছেন যার জন্ম ১৯৫৮ সালে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, এই ব্যক্তি কিছু সময় দোনেৎস্কর পূর্বাঞ্চলে বসবাস করেছে।
তিনি একটি নিবন্ধিত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালান। ওই ব্যক্তির নামে অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করার বিষয়টি এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া হামলার আগে ওই ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজের অ্যাপার্টমেন্টে কোনো বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কিইভে নিয়মিত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলেও, এ ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা শহরটিতে বেশ বিরল।
