ড্রোন হামলার ছবি শেয়ার করায় আমিরাতে ব্রিটিশ বিমানকর্মী গ্রেপ্তার
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি বা ভিডিও প্রচারের ওপর কড়াকড়ির অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নিয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ড্রোন হামলার ছবি শেয়ার করায় এক ব্রিটিশ বিমানকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনও ছবি বা ভিডিও প্রচারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নিয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় পর্যটন ও ব্যবসার বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের উন্মুক্ত ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
২৫ বছর বয়সী ওই ব্রিটিশ বিমানকর্মী দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতির ছবি হোয়াটসঅ্যাপের একটি ব্যক্তিগত গ্রুপে শেয়ার করেছিলেন।
সেখানে তিনি সহকর্মীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, “বিমানবন্দর দিয়ে চলাচল করা কি এখন নিরাপদ?” কর্তৃপক্ষ পরে তার ফোন তল্লাশি করে এবং কঠোর সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় তাকে অভিযুক্ত করে।
দোষী সাব্যস্ত হলে এই বিমানকর্মীর দুই বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা হতে পারে বলে জানিয়েছে ‘দ্য ডেইলি মেইল’ পত্রিকা।
মানবাধিকার সংগঠন ‘ডিটেইনড ইন দুবাই’এর হিসাবমতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং শেয়ার করে ‘জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার’ অভিযোগে এ পর্যন্ত আনুমানিক ৭০ জন ব্রিটিশ নাগরিক আটক হয়েছে।
এদের মধ্যে পর্যটক, প্রবাসী এবং বিমান সংস্থার কর্মীরা রয়েছেন। ৬০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ পর্যটককে ড্রোন হামলার দৃশ্য ধারণের জন্য আটক করা হয়। যদিও পুলিশের হাতে পড়ার পর সেই ভিডিও মুছে ফেলেছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, সংকটের সময়ে এ ধরনের তথ্য বা ছবি শেয়ার করলে ‘তাৎক্ষণিক ফৌজদারি জবাবদিহিতা’র মুখে পড়তে হবে।
যুদ্ধের ছবি শেয়ারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ আমিরাতে মানুষের স্বাধীনতা এবং বিশ্বে দেশটির ভাবমূর্তি বজায় রাখা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
