Published : 12 May 2025, 01:35 PM
পাকিস্তানকে একটি ‘হটলাইন’ বার্তা পাঠিয়ে অস্ত্রবিরতি সমঝোতার লঙ্ঘন নিয়ে সতর্ক করে ভারতের সামরিক বাহিনী বলেছে, যদি এর পুনরাবৃত্তি হয় তবে নয়া দিল্লি জবাব দেবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার বার্তাটি পাঠানো হয়। তবে অস্ত্রবিরতির কোনো লঙ্ঘনের কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র।
নড়বড়ে একটি অস্ত্রবিরতির ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্স (ডিজিএমও) এই সমঝোতা নিয়ে কথা বলেছেন, জানিয়েছে রয়টার্স।
উভয়পক্ষ শনিবার রাতে অস্ত্রবিরতির প্রাথমিক লঙ্ঘনের জন্য এক অপরকে দায়ী করে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর অস্ত্রবিরতি ঠিকঠাকভাবে চলছে বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “পাকিস্তান সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনী অস্ত্রবিরতির কোনো লঙ্ঘন করেনি।”
রোববার ইসলামাবাদের এই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার থেকে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ টানা চারদিন ধরে তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত থাকার পর শনিবার বিকালে হঠাৎ করেই অস্ত্রবিরতির ঘোষণা আসে। তিন দশকের মধ্যে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে তীব্র লড়াই। তারা পরস্পরের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ও ড্রোনযোগে হামলা চালায়। এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হন।
লড়াই উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, এমনটি বোধ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আর যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই তৎপরতা অস্ত্রবিরতি সমঝোতায় সহায়তা করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার দুই দেশের মধ্যে এই অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়ে জানান, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় এটি সম্ভব হয়েছে।
কিন্তু অস্ত্রবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারত শাসিত কাশ্মীরে গোলাবর্ষিত হতে দেখা যায়। চারদিনের যুদ্ধের অধিকাংশ সময় এই অঞ্চলটিই কেন্দ্রে ছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বাসিন্দারা ও রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্ল্যাকআউটের মধ্যে সীমান্তের কাছের শহরগুলিতে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।
অস্ত্রবিরতির কথা উল্লেখ করে ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজিব ঘাই বলেন, “অনেক সময় এই ধরনের সমঝোতাগুলো ফলপ্রসূ হতে, ঘটনাস্থলে স্পষ্ট হতে সময় নেয়। (ভারতীয়) সশস্ত্র বাহিনী (গতকাল) অতি অতি উচ্চ সতর্কাবস্থায় ছিল আর এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি জানান, ভারতের সেনা প্রধান বাহিনীর কমান্ডারদের তারা যেটা ভালো মনে করবেন সেভাবে সীমান্তের অপর পাশ থেকে আসা ‘যে কোনো ধরনের লঙ্ঘনের’ মোকাবেলা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি জানান, তার সমমর্যাদার পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা শনিবার বিকালে তাকে ফোন করে দুই দেশের ‘শত্রুতা বন্ধের’ প্রস্তাব দেন এবং জরুরিভিত্তিতে অস্ত্রবিরতির অনুরোধ জানান।
অপরদিকে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জানান, ৬ ও ৭ মে-র মধ্যে পাকিস্তানে সামরিক হামলা চালানোর ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপের পর ভারতের আগের জানানো অনুরোধে ১০ মে সাড়া দেয় পাকিস্তান।
শনিবার রাতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্ত্রবিরতি সমঝোতার প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে এটি লঙ্ঘনের জন্য ভারতকে দায়ী করেছিল।