Published : 10 Nov 2025, 10:49 PM
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার আইনজীবীদের কাছ থেকে বিবিসি’কে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ ও ‘ফক্স নিউজ’।
অনুসন্ধানমূলক তথ্যচিত্র প্যানোরামায় ট্রাম্পের ভাষণ সম্পাদনা দর্শকদের বিভ্রান্ত করেছে বলে বিবিসি’র স্বীকারোক্তির পর মামলার এই হুমকি এল। যদিও বিবিসি’র চেয়ারম্যান সমির শাহ এরই মধ্যে সম্পাদনায় ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষণ সম্পাদনার ক্ষেত্রে ‘বিবেচনাগত ত্রুটির’ জন্য সোমবার ক্ষমা চান সমির শাহ। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া কমিটিতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই ক্ষমা চান।
এতে শাহ স্বীকার করেছেন যে, ট্রাম্পের ভাষণ যেভাবে সম্পাদনা করা হয়েছিল তাতে “২০২১ সালের জানুয়ারিতে ক্যাপিটল দাঙ্গায় তিনি প্ররোচনা দিয়েছিলেন বলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।”
সমির শাহ এর ক্ষমা চাওয়ার আগে এই সংক্রান্ত বিতর্কে রোববার পদত্যাগ করেছন বিবিসি-র দুই শীর্ষকর্তা টিম ডেভি ও ডেবোরা টারনেস।
২০২৪ সালে মার্কিন নির্বাচনের আগে ২৮ অক্টোবর তথ্যচিত্রটি প্রকাশিত হয়। দিন কয়েক আগে এ তথ্যচিত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণ জোড়া দেওয়ার খবর প্রচারের পর এ নিয়ে বিতর্ক ওঠে।
এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ট্রাম্পও। তার প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বিবিসিকে ‘শতভাগ ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ ও ‘প্রোপাগান্ডা মেশিন’ বলে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেই রোববার রাতে পাঁচ বছর ধরে মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা টিম ডেভি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিন ‘সব ভুল আমার’ বলে স্বীকার করে নেন।
এরপরই সোমবার ট্রাম্প বিবিসি’র বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠান। এতে তিনি প্যানোরমা তথ্যচিত্র পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য ১৪ নভেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায়, ১০০ কোটি ডলারের মামলা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্টকে নিয়ে তথ্যচিত্রটির মিথ্যা, মানহানিকর, অপমানজনক, জ্বালাময়ী সব বক্তব্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে প্রত্যাহার করে না নেওয়া হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং এই অধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া ট্রাম্পের আর কোনও উপায় থাকবে না এবং ক্ষতিপূরণও ১০০ কোটি ডলারের কম হবে না।
প্যানোরামা তথ্যচিত্র যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সম্প্রচারিত হয়। এতে ট্রাম্পের ভাষণের দুটি ভিন্ন অংশ জোড়া দেওয়া হয়েছিল। তাতেই এই ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় প্ররোচনা দিয়েছিলেন।